Home » Featured » টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে মোশন আনা হচ্ছে

টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে মোশন আনা হচ্ছে

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকেঃ

 

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেনকে জড়ানো এবং ইরাক দখলের জন্যে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মোশন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

PA Wire

 

বিবিসি টেলিভিশনের অ্যান্ড্রো মার শোতে বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি করবিন এবং ডেভিড ডেভিস এমপি আলোচনার সময় জোরালোভাবে এমন বক্তব্য উত্থাপন করেন। ডেভিড ডেভিস এমপি মোশন উত্থাপন করবেন, জেরেমি করবিন বলেন, তিনি এই মোশনে সমর্থন করবেন।ডেভিড ডেভিস বলেন, তিনি টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে মশন আনবেন- ০১) পার্লামেন্টকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্যে, ০২) মাস ডেস্ট্রাকশনা ধবংসের জন্যে তিনবারের ভুল তথ্য প্রদান, ০৩) ভুল তথ্যের মাধ্যমে জাতি সংঘের রেজ্যুলুশন উপস্থাপন ও পাশ ০৪) ঝুঁকি এবং শংকার  অজুহাতে যুদ্ধে যাওয়া ইত্যাদি কারণে টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে ধোকা ও মিথ্যা দেয়ার জন্যে মোশন আনা হবে বলে ডেভিড ডেভিস দাবি করেন।

 

PA Wire

(ডেভিড ডেভিস এমপি)

 

তার মতে, অবমাননা ও প্রতারনার জন্য ধোকা দিয়েছেন টনি ব্লেয়ার- সেটা প্রমাণিত।

 

জেরেমি করবিন বলেন, সম্ভবত তিনি এই মোশনে সমর্থন করবেন ইরাক অগ্রাসনের জন্যে।

 

Alex Salmond appears on Peston on Sunday.

(অ্যালেক্স সালমন্ড)

 

এদিকে স্কটল্যান্ডের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স সালমন্ড রবার্ট প্রেস্টনকে বলেছেন,  তিনি মোশনকে সমর্থন করবেন- তার মতে ব্লেয়ারকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ ।

 

আর যুদ্ধে আহত ও নিহত সৈনিকদের পরিবারের সদস্যদেরও দাবি ব্লেয়ারকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত ।

 

 

ইরাক যুদ্ধ অবৈধ- জন প্রেসকটঃ

 

John Prescott has turned on his old boss Tony Blair

 

২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের সময়ে জন প্রেসকট ছিলেন টনি ব্লেয়ারের সরকারের ডেপুটি  প্রাইম মিনিস্টার। লন্ডনের ডেইলি মিররে  এক নিবন্ধে তিনি ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেন ও আমেরিকার অংশগ্রহন অবৈধ উল্লেখ করে লিখেছেন টনি ব্লেয়ার জোরপূর্বক মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ব্রিটেনকে ইরাকযুদ্ধে নিয়েছিলেন।

 

টনি ব্লেয়ার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে গর্ডন ব্রাউন ক্ষমতায় আসেন। ঐ সময়   ইরাক যুদ্ধের যৌক্তিকতা ইত্যাদি নিয়ে তিনি স্যার চিলকোটের নেতৃত্বে কমিশন গঠণ করেন এবং  সাত বছর পর সম্প্রতি চিলকোট রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। চিলকোট রিপোর্টে ইরাক যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং ঐ সময় যুদ্ধে যাওয়া অবধারিত ছিলোনা, এমনকি সাদ্দাম হোসেনের কাছে বিধবংসী রাসায়নিক অস্র ছিলো- এমন প্রমাণ ছিলোনা বলেও মন্তব্য করা হয়। ফলশ্রুতিতে টনি ব্লেয়ারও রিপোর্ট প্রকাশের পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

 

২.৬ মিলিয়ন শব্দের  চিলকোট রিপোর্টে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট যথার্থ ছিলোনা বলে মন্তব্য করা হয়। এর পর পরই প্রেসকটের এই যুদ্ধকে অবৈধ বলার পরই পার্লামেন্টে মোশন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হচ্ছে, ব্লেয়ারকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। ধীরে ধীরে এই দাবি এখন জোরালো হচ্ছে। যদিও চিলকোট রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট করে ব্লেয়ারকে আদালতের সম্মুখিন করার বা পুলিশি একশনের কথা নেই। তথাপি চিলকোট সব অপশনই খোলা রেখেছেন জনগনের জন্যে সহজেই অনুমেয়। ১৭৯ জন ব্রিটিশ সৈনিক নিহত হওয়া পরিবারের লোকজন এখন প্রাইভেট লইয়ারের মাধ্যমে ব্লেয়ারকে আদালতে নেয়ার একটা উদ্যোগের কথাও শুনা যাচ্ছে।

 

 

salim932@googlemail.com

10th July 2016, London

 

 

 

 

 

 

৬ Comments

Add a Comment

Your email address will not be published.