Home » লন্ডন নিউজ » ব্রিটেনের রোজনামচা-০৪

ব্রিটেনের রোজনামচা-০৪

ব্রিটেনের রোজনামচা-০৪

 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

tweet@salim1689

 

 

যুক্তরাজ্য বিএনপির আহবায়ক কমিটি বাতিলঃ নেপথ্যের কারণ চাদাবাজী-

মাত্র চার মাস আগে গঠিত যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন কমিটি হঠাৎ করেই কেন্দ্র কর্তৃক স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ও লন্ডন নগরীতে নানা গুঞ্জন ও রিউমার ডালাপালা ছড়াচ্ছে।কেউ কেউ আহবায়ক কমিটির অহেতুক তোষামোদী ও দলের সিনিয়র যুগ্ম-সচিবের নামে ব্যাপক চাদা বাজীকে দায়ী করেছেন।আবার আব্দুল মালেক বিরোধী গ্রুপ মালেকের স্বেচ্ছাচারীতা ও দলীয় শৃংখলা পরিপন্থী কর্মকান্ডকে দায়ী করে চলেছেন।দীর্ঘদিন পর অনেক জল্পনা আর নাটকের পর সম্প্রতি আব্দুল মালেক ও ব্যারিষ্টার সালামকে আহবায়ক ও সচিব করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট যুক্তরাজ্য বিএনপির আহবায়ক কমিটি কেন্দ্র কর্তৃক অনুমোদনের চার মাসের মাথায় বাতিল করে দেওয়ায় এই আলোচনা বেশ তুঙ্গে উঠেছে।

অনেকেই বাংলা নিউজ সহ বিলেতের বাংলা মিডিয়াতে ফোন করে আসল কারণ জানতে চাচ্ছেন।জনপ্রিয় বাংলা সাপ্তাহিক সুরমা, বাংলা পোষ্ট, বাংলা টইমস, পত্রিকা, ইউরোবাংলা এ নিয়ে প্রধান প্রধান শিরোনামে সংবাদ যেমন প্রকাশ করেছে, একইভাবে টক অব দ্য টাউন হিসেবেও বেশ সরগরম।

বাংলা মিডিয়া সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৭-ই আগষ্ট ২০১২ বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি ফ্যাক্সের মাধ্যমে লন্ডনে আসে, তাতে কেন্দ্রীয় কমিটি যুক্তরাজ্য বিএনপিকে স্থগিত ঘোষণা করে।এই সংবাদ লন্ডনে প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে বর্তমান আহবায়ক আব্দুল মালেক গ্রুপ এর নেতা-কর্মীদের মাঝে বেশ হতাশা দেখা দেয়, পক্ষান্তরে বিরোধী গ্রুপ এটাকে মালেক গ্রুপের চাদাবাজীর ফল হিসেবে দেখছে।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে চিকিৎসারত বিএনপির এক নম্বর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব তারেক রহমানের নামে বর্তমান কমিটি চাদাবাজীতে লিপ্ত ছিলো।বর্তমান কমিটি দায়িত্বগ্রহণের পর তারেক রহমানকে একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ী উপহার দেয়, যা ফাইন্যান্স করে কেনা হয়েছিলো, বর্তমান কমিটি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে চাদা তুলে এই গাড়ীর পেমেন্ট দিতেছিলো, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ব্রিটেনের বিভিন্ন শাখা কমিটি পূণর্গঠণের নামে দলীয় পদ-পদবীর বিপরীতে দুই হাজার পাউন্ড করে চাদা উঠিয়ে এই গাড়ীর মাসিক কিস্তি প্রদান করা হচ্ছিলো।এরই মধ্যে গত ১১ জুলাই আহবায়ক কমিটির সভায় যে সব এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো-জিয়া ভবন নামে যুক্তরাজ্য বিএনপির অফিস ক্রয়ের লক্ষ্যে শেয়ার ও ডাইরেক্টরশীপ বাবদ ১০ হাজার পাউন্ড, ৫ হাজার পাউন্ড, ১ হাজার পাউন্ড, ৫শত পাউন্ড নিয়ে ৭ নম্বর এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত হয়েছিলো।তাছাড়া, আগামী কাউন্সিলে বর্তমান আহবায়ক আব্দুল মালেক যাতে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হতে পারেন, তার পথ পরিস্কার করার লক্ষ্যে দলীয় নিয়ম বহির্ভূত ৬ নম্বর এই এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত হয়েছিলো, এছাড়াও ছিলো, যুক্তরাজ্য বিএনপির বর্তমান আহবায়কের একক ক্ষমতা প্রদানের ৪ নম্বরের এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত হয়েছিলো।এই সব এজেন্ডা গুলোর মধ্যে জিয়া ভবনের বিষয়টি সভায় পাশ করাও হয়েছিলো।

অলিম্পিক গেইমসের সময় শেখ হাসিনার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভে বিএনপির বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে ক্লেশ বাড়তে থাকলে অনেকের মতে তারেক রহমান এর উদ্যোগে দুই গ্রুপকে এক করে দিয়ে দলীয় কর্মকান্ড প্রচারে আত্মনিয়োগ করতে দিলে বর্তমান কমিটি তেমন কোন লোকসমাগম করতে ব্যর্থ হয়।তবে আদৌ তারেক রহমান এতে হস্তক্ষেপ করেছেন কিনা, তা নিয়ে রয়েছে বড় সংশয়। আবার অনেকে বলছেন, বর্তমান কমিটি তারেকের নাম ভাঙ্গিয়ে বিরোধী গ্রুপকে কোণঠাসা করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলো।

আব্দুল মালেক বিরোধী গ্রুপের দুএকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারেক রহমানের বাসার ইউটিলিটি বিল যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা নিয়মিত পেমেন্ট করেন বলে প্রচার করে বিশেষ প্রভাব খাটানোর ও চাদাবাজীর সাথে বিশেষ সক্রিয় ছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এই সব কিছুই বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গোচরীভূত করা হলে তিনি ক্ষোভের সাথে যুক্তরাজ্য বিএনপির এই কমিটি বাতিল করে দেন।বর্তমানে তারেক জিয়া অসুস্থ্য অবস্থায় স্ত্রী,মেয়ে সহ লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন।দলের কোন পর্যায়ের নেতা-কর্মী কিংবা দলের কোন কর্মকান্ডে তাকে দেখা যায়না।এহেন অবস্থায়, ঢাকা থাকাকালীন দল যখন ক্ষমতাসীন ছিলো, তখন ব্যাবসায়ী মামুনদের সুবাধে তারেক রহমানের ব্যাক্তিগত ইমেজের যে ক্ষতি হয়েছে, লন্ডনে সেই একই ব্যাবসায়ীদের ক্ষপ্পরে পড়ে তারেকের ইমেজের আরেকদফা সংকঠ হাইকমান্ড বুঝতে পেরেই এই কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা ফ্যাক্সের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় বলে অভিজ্ঞ মহল ধারণা করছেন।

সাপ্তাহিক ইউরোবাংলার অন্যতম পরিচালক, বিএনপির প্রভাবশালী আরো এক নেতা মিয়া মণিরুল আলম কেন্দ্র কর্তৃক এই কমিটি বাতিলের কোন কারণ অজানার কথা প্রকাশ করেছেন বলে বাংলা মিডিয়ার খবরে প্রকাশ করা হয়েছে।উল্লেখ্য যে সব শাখা কমিটির নের্তৃবৃন্দ কমিটিতে অন্তর্ভূক্তি ও শাখা কমিটি পূণর্গঠণের আশায় আহবায়ক কমিটির কথা মতো দুই হাজার পাউন্ড করে চাদা দিয়েছিলেন, তাদের মাথায় এখন হাত পড়েছে, কারণ কমিটি স্থগিত ও বাতিলের ঘোষণায় তাদের আম ও ছালা দুটোই গেছে।তারা এখন অনেকটা হতাশ বলে বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।বাতিল কৃত কমিটির নেতা আব্দুল মালেক ও ব্যারিষ্টার সালামের সাথে চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নাই, তবে বাংলা মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকারে ব্যারিষ্টার সালাম কেন্দ্র কর্তৃক কমিটি স্থগিত ও বাতিলের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।অন্যান্য অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি বাংলা মিডিয়াকে জানান।

টাওয়ার হ্যামলেটস ভবনে মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের সভা পন্ডঃ লন্ডনে তোলপাড়-

 

সম্প্রতি ব্রিটেন সফরে আসা বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ এর সাথে টাওয়ার হ্যামলেটস বারা কাউন্সিলের স্পীকার রাজীব আহমদের আনুষ্টানিক বৈঠক টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মূল কমিটি মিটিং রুমে অনুষ্টান চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করে ফায়ার এলার্ম বেজে উঠলে মন্ত্রী আশরাফ সহ আমন্ত্রিত সকলেই তড়িঘড়ি করে কাউন্সিল ভবন ত্যাগ করে বাহিরে চলে আসেন।

ফায়ার এলার্ম বেজে উঠায় আনুষ্টানিক এই বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলের গাছ তলাতে বাকী বৈঠকের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।এ নিয়ে লন্ডনে বাংলা কমিউনিটি সহ লোকাল লেবার ও কনজারভেটিভ দলের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।স্থানীয় বাংলা মিডিয়ায় বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়ে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়।

কেউ কেউ টাওয়ার হ্যামলেটস এর নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে বৈঠক ভন্ডুলের ব্যাপারে ফলস এলার্ম চালু করার কথা বলতে শুনা যায়।আবার অনেকে ধারণা করছেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী বিচারে ক্ষুব্ধ জামায়াতী ইসলামী সমর্থক শক্তিশালী অংশ ইচ্ছে করে এই ফলস ফায়ার এলার্ম বাজিয়ে মন্ত্রী ও স্পীকারের নির্ধারিত সভা পন্ড করে দেয়।উল্লেখ্য টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলে বেশীর ভাগ বাংলাদেশী অধ্যুষিত কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত, যাদের অধিকাংশই জামায়াতে ইসলামী, দাওয়াতী ইসলামী ইউরোপ এবং বিএনপির সমর্থক বলে কথিত আছে।

জানা যায়, টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়রের আমন্ত্রণে সৈয়দ আশরাফের সাথে গত ০৯ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বৈঠকের পরিবর্তে বুধবার হওয়ার প্রেক্ষিতে আগের দিন কাউন্সিল চেম্বার ব্যাবহারের ব্যাপারে নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।আর তা থেকেই শুরু হয় এই বিতর্ক।সৈয়দ আশরাফের সাথে স্পিকার রাজীবের বৈঠক চলাকালীন সময়ে ফায়ার এলার্ম বেজে উঠাকে তাই অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন, যদিও কর্মচঞ্চল অফিস চলাকালীন সময়ে ফায়ার এলার্ম বেজে উঠা স্বাভাবিক ঘটনা।এই ব্যাপারে লুৎফুর রহমান বাংলা মিডিয়াকে জানান, এতে তার কোন হাত নেই।তাছাড়া মিঠিং চলাকালীন সময়ে তিনি তখন কাউন্সিলের বাইরে ছিলেন বলে জানান।এটা তার বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র বলে জানান।তিনি আরো বলেন এমন প্রচারণা করে জনগণ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা।অনুষ্টানে উপস্থিত অতিথি সাবেক মন্ত্রী ও লেবার দলীয় এম,পি জিম ফিটজ পেট্রিক ইষ্ট লন্ডন এডভার্টাইজারের কাছে প্রতিক্রিয়া বলেছেন, মেয়রের এই ধরনের আচরণে একজন আন্তর্জাতিক অতিথি নিশ্চয় অপমাণিত বোধ করতে পারেন।তিনি আরো বলেছেন, অলিম্পিক উপলক্ষ্যে যেখানে আমরা বিভিন্ন দেশের সাথে বন্ধুত্ত্বের হাত বাড়িয়েছি, সেখানে নির্বাহী মেয়রের আদেশে কাউন্সিল চেম্বার ব্যাবহারের অনুমতি প্রদান প্রত্যাহার খুবই দুঃখজনক।এই ব্যাপারের কনজারভেটিভ গ্রুপ লীডার পিটার গোল্ড বলেছেন, কাউন্সিল চেম্বার তালাবদ্ধ করে রাখা আমাদের জন্য বিব্রতকর, এটা টাওয়ার হেমলেটসকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার স্পিকার রাজীব আহমদ এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে উদ্ভূদ পরিস্থিতি সহ বৈঠক চলাকালীন সময়ে ফায়ার এলার্ম বেজে উঠা রহস্যজনক উল্লেখ করে সিসিটিভি পরীক্ষা করে ব্যাবস্থা নিতে আহবান জানান।

ইমিগ্রেশন ষ্টাফরাই এয়ারপোর্টে ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারভিউ নিবেন-

স্থানীয় ব্রিটিশ হাই কমিশন থেকে ভিসা নিয়ে এসে, সকল কাগজ-পত্র যথাযথভাবে থাকার পরেও ইমিগ্রেশন অফিসার যদি ইংরেজী টেষ্টে সন্তুষ্ট না হন, তবে ছাত্র-ছাত্রীদের সরাসরি এয়ারপোর্ট থেকেই নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারবেন।ব্রিটেনের নয়া ষ্টুডেন্টস ভিসা সংক্রান্ত নীতিমালায় ইমিগ্রেশন অফিসারদের এই রকম ক্ষমতা দেওয়ায় বেশ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।বলা হচ্ছে, ভিনদেশী একজন ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজী দক্ষতা পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন অফিসার কতটুকু দক্ষ ও অভিজ্ঞ- সেটাই এখন মুখ্য বিষয়।যারা ইসোল ও আইএলটিএসে দক্ষ ও অভিজ্ঞ তাদের মতামত হলো, এই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের আগে ইমিগ্রেশন অফিসারদের ভাষা টেষ্ট নেওয়ার ব্যাপারের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলা উচিত।তাদের মতে ভাষা পরীক্ষা নেওয়া একটা কঠিণ ব্যাপার, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ অফিসার না হলে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি অবিচার করা হবে।

এক তথ্য বিবরণিতে জানা যায়, ২০১১ সালে ব্রিটেনে মোট ৬৩ হাজারের মতো ভূয়া ছাত্র-ছাত্রী প্রবেশ করেছে।হোম অফিস কর্তৃক পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের আওতায় ইমিগ্রেশন ওয়াচ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।ভূয়া ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মায়ানমার,যার ৬২ শতাংশই ভূয়া বলে ইমিগ্রেশনে ওয়াচের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।এই হিসাব মোতাবেক এর পরই রয়েছে নাইজেরিয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থান, আর ৫২ শতাংশ ভূয়া ছাত্র-ছাত্রী ভারত উপমহাদেশ থেকে ঢুকেছেন বলে দাবী করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই সব ভূয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ব্রিটেনে ঢোকা ঠেকাতেই নতুন এই নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে।

চ্যানেলে চ্যানেলে সারা রমজান নামে-বেনামে চ্যারিটির নামে ফান্ডরেইজিং অনুষ্টান-

রমজান মাস শুরু হওয়ার সাথে-সাথেই সারা মাসব্যাপী ঈদের রাত পর্যন্ত ব্রিটেনের সব কটা বাংলা চ্যানেলে বিকেল থেকেই ভোর রাত সেহরী অবধি বিভিন্ন নামের অসংখ্য চ্যারিটি সংগঠণের নামে ফান্ড রেইজিং এর এক বিরামহীন অসম প্রতিযোগীতা চলতে দেখা যায়, এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্টিত সত্যিকারের যেমন চ্যারিটি রয়েছে, তেমনি রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক অখ্যাত চ্যারিটি ও সংগঠণ।ব্রিটেনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও চ্যারিটির যেমন স্বচ্ছ জবাব দিহির ব্যাবস্থা রয়েছে,এই রকম ফান্ডরেইজিং স্বাভাবিক এবং মহৎ কাজ, সেরকম বাংলাদেশের নাম ভাঙ্গিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানান সংগঠণের ও চ্যারিটির নাম করে ফান্ড রেইজিং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অননুমোদিত ভাবে করাটা  কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্ন।কমিউনিটির বিভিন্ন অবস্থান থেকে প্রশ্ন রয়েছে, দেশের অসহায়-দরিদ্র জনগণের নাম ভাঙ্গিয়ে যে বা যারা ফান্ড রেইজিং করে চলেছেন, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কোন প্রকৃত ব্যাবস্থা আছে কিনা, আর যদি থাকে, তা কিভাবে দেখ-ভাল করা হচ্ছে? সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারীর ব্যাবস্থা আছে কিনা?কেননা, যাদের জন্য এই ফান্ডরেইজিং করা হচ্ছে তাদের কাছে কতোটুকু পৌছে, সেটা মনিটরিং কিভাবে করা হচ্ছে ?

উল্লেখ্য ব্রিটেনে বর্তমানে চ্যানেল এস, এটিএনবাংলা ইউকে, এনটিভি ইউকে,বাংলা টিভি,চ্যানেল নাইন, চ্যানেল আই পূর্ণ সম্প্রচারে রয়েছে, যা স্কাই টিভির মাধ্যমে সারা ব্রিটেনে ফ্রি-ভিউর আওতায় চব্বিশ ঘন্টা প্রদর্শিত হয়ে থাকে।

tweet@Salim1689

20th  August 2012,UK.

Add a Comment

Your email address will not be published.