Home » লন্ডন নিউজ » ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইমিগ্রেশন কৌশলপত্র অনেক সহজ করেছে-

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইমিগ্রেশন কৌশলপত্র অনেক সহজ করেছে-

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ / সুরমানিউজবিডিডটকম /

http://ec.europa.eu/immigration নামে গত নভেম্বর মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইমিগ্রেশনের নয়া নিয়ম-নীতি সহ একটি ওয়েবসাইট প্রকাশ করেছে।ইমিগ্রেন্টদের জন্য ভিসা পাওয়া সহজিকরন এবং ইউনিয়নভূক্ত বিভিন্নদেশে যাতায়াতকে সহজ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্তপূর্ণ নীতিমালা সমেত ইমিগ্রেশন কৌশলপত্র প্রকাশ করেছে।এই কৌশলপত্রে বলা হয়েছে যে,আগামীতে যে সব সেক্টরে দক্ষ কর্মীর অভাব পরিলক্ষিত হবে,তাদের এই নয়া ইমিগ্রেশন কৌশলপত্রের ফলে সেই সব ক্ষেত্রে বা সেক্টরে কর্মী নেয়া তথা পুরণ করা সহজ হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নয়া কৌশলপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলো থেকে কর্মী আনা অথবা ভিসা পেতে সহজ হবে কিনা,তা এখনো পরিস্কারভাবে কিছুই বলা হয় নাই,তবে সম্প্রতি পর্তুগাল সহ বেশ কিছু ইউরোপীয়ান দেশ বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশীয়ার ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য অনেক উদার নীতি গ্রহণ করেছে বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে।কিন্ত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল বলে খ্যাত ব্রিটেন বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশীয় ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য অনেক কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের হোম এফেয়ার্স কমিশনার সেসিলিয়া মাল্মষ্টার্ম তাদের নয়া কৌশল পত্র সম্পর্কে বলেন, গ্লোবাল এপ্রোচ টু মাইগ্রেশন আন্ড মোবিলিটি-সংক্ষেপে জিএএমএম এর নবায়ন কিছু সংযুক্তি হিসেবেই এসেছে।এই জিএএমএম এর আওতায় ইউরোপীয় দেশ গুলোর সাথে এর বাইরের দেশগুলোর মধ্যে কমন মাইগ্রেশন নীতির ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

সেসিলিয়ার উদ্বৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে,যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মিলিত বেকারত্তের হার ৯.৫ শতাংশ,তথাপি এই অঞ্চ্বলের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বয়স্ক হয়ে পড়াতে কিছু-কিছু সেক্টরে কর্মীর অভাব পরিলক্ষতা হচ্ছে।আগামী দুই থেকে তিন বসরের ব্যাবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুধু স্বাস্থ্য খাতেই অন্তত দুই মিলিয়ন কর্মীর দরকার হবে বলে ইতিমধ্যে ইউনিয়নই আভাস দিয়েছে।অনলাইন নিউজ এজেন্সী এখনই আগাম আভাস দিয়ে রেখেছে কোন কোন সদস্য রাষ্ট্র ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইটি ক্ষেত্রে দক্ষ লোকের অভাব দেখা দিতে পারে।

সদ্য ঘোষিত জিএএমএম আর আওতায় দটি বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্ত্ব দেয়া হয়েছে,আর তা হলো-মোবিলিটি পার্টনারশীপ এবং মাইগ্রেশন এন্ড মোবিলিটি রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্টা।এই সম্পর্কে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ সলিসিটার ফার্ম বেনহোর এন্ড কোঃ মিঃ ডেবিড  বলেন, মোবিলিটি পার্টনারশীপের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশসমূহের সাথে তিউনিসিয়া,মরক্কো,এবং মিশরের সাথে তাদের নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভিসা এবং এর অনুসাংগিক বেশ কিছু প্রয়োযনীয় ইসূতে অংশীদারিত্ত্ব প্রতিষ্টা হবে।মেকক্যানজীব্যাল ফার্ম বিশেষজ্ঞ এতে আরো বলেন,মাইগ্রেশন এন্ড মোবিলিটি রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্টার ফলে দক্ষতা এবং প্রায়োরোটি অনুযায়ী অংশীদার দেশগুলোর কর্মীদের জন্য চাকুরী খুজে দেয়ার টার্গেটকৃত কাজ করা হবে।

এদিকে মজার ব্যাপার হলো,ফ্রান্স সরকার অবশেষে অনেক দেন-দরবারের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রণীত এর বাইরের দেশগুলো থেকে সদস্যভূক্ত দেশ সমূহে আগমণের সুবিধার্থে ব্লু-কার্ড স্কীম অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে ফ্রান্স সরকার ইউনিয়নের বাহিরের দেশসমূহের নাগরিকগণ এই ব্লু-কার্ড স্কীমের সুযোগ লাভ করবেন।ধারণা করা হচ্ছে, ব্লু-কার্ড স্কীম চালুর ফলে হয়তো ফ্রান্স পরবর্তিতে ওয়ার্ক পারমিট এর ক্যাটাগরিও বাড়াতে পারে।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট করতে ইউনিয়নভূক্ত দেশসমূহের জন্য ২০০৯ সালের মে মাস থেকে ইইউ ব্লু-কার্ড এর নির্দেশনা দেয় ইউনিয়ন,নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই ব্লু-কার্ড স্কীম চালুর করার সময়সীমা বেধে দিয়েছিলো ইউনিয়ন।কিন্তু ইউনিয়নের ২৭ টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ব্রিটেন, ডেনমার্ক,আয়ারল্যান্ড শুরু থেকেই এর বিপরীতে নিজস্ব ইমিগ্রেশন নীতি অনুসরনের কথা জানিয়ে আসছিলো,যা ব্রিটেন এখনো তা বহাল রেখেছে,বাকী ২৮ টি দেশের মধ্যে এখনো বেশ কয়েকটি দেশ এই ব্লু-কার্ড স্কীম বাস্তবায়ন করেনি।

ওয়েবসাইট ঘেটে ব্লু-কার্ড পেতে যে সব যোগ্যতা লাগবে বলে জানা যায়,তা হচ্ছে, ১)কোন বিদেশী নাগরিককে কমপক্ষে এক বছরের চুক্তি থকতে হবে।২)এই স্কীমের আওতায় আবেদন করতে হলে দেশটির সর্বনিম্ন যে বেতন কাঠামো রয়েছে,তার থেকে দেড় গুন বেশী বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।৩)একই সাথে সর্ব নিম্ন তিন বছরের ডিগ্রী কোর্সের সমমর্যাদার পড়াশুনা অথবা সংশ্লিষ্ট কাজে কম পক্ষে পাচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।৪)এই কার্ড এর বিষয়ে ফ্রান্স এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে প্রবেশের এক মাসের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিটধারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিককে আবেদন করতে হবে।ব্লু-কার্ড এর অনুমোদনের মেয়াদ নির্ভর করবে প্রস্তাবিত ওয়ার্কপারমিট এর মেয়াদের উপর,যার সর্বোচ্চ মেযাদ হবে তিন বছর।এই বিষয়ে প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিষ্টার এ,আলী ব্যাখ্যা করে বলেন,ব্লু-কার্ড নবায়ন যোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।ব্লু-কার্ড ব্যাক্তির স্পাউসের জন্য প্রাইভেট এবং ফ্যামিলি লাইফ ক্যাটাগরিতে ওয়ার্ক পারমিট ইসু করা হবে।তিনি বলেন,তবে এ ধরনের ওয়ার্কপারমিট এর প্রাথমিক মেয়াদ হবে এক বছর,যা নবায়নযোগ্য।ফ্রান্স কর্তপক্ষ অনুমান করছে ব্লু-কার্ড প্রক্রিয়ার আবেদনের সিদ্দ্বান্ত আবেদনের নব্বইদিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।আর স্পাউসের ক্ষেত্রে আবেদনের দিন থেকে সর্বোচ্চ একশত আশী দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।এখানে উল্লেখ্য, যে সব বিদেশী নাগরিক ইতিমধ্যে ইউনিয়নের যে কোন দেশে এই কার্ড এর আওতায় আঠারো মাস যাবত অবস্থান করছেন,তারা আপনাআপনিই ফ্রান্সের এই কার্ডের অধিকারী হয়ে যাবেন।ব্লু-কার্ড এবং তার ডিপেন্ডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাচ বছর অবস্থান করা সাপেক্ষে দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সী পাবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে লন্ডনের বাংলানিউজ এবং ইভিনিং ষ্ঠ্যান্ডার্ড পত্রিকার বিভিন্ন খবরে উল্লেখ করা হয়েছে,এসাইলাম প্রশ্নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জূড়ে উন্নত এবং সমন্ন্বিত নীতি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

জানাগেছে,২০১২ সালের মধ্যে চালুর উদ্দেশ্যে কমন ইউরোপীয়ান এসাইলাম সিষ্ঠেম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

ব্যাতিক্রম শুধু ব্রিটেন,ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে আরো কড়াকড়ি শুরু করেছে।আগামী বছর থেকে ব্রিটেন কর্মীর ভিসা ষ্ঠ্যাটাস অনলাইনে সনাক্ত বা চেক করার জন্য চাকুরীদাতাদের জন্য সুযোগ সম্বলিত ব্যাবস্থার কথা এখনি আলোচনা শুরু করেছে,যার লক্ষ্য হলো অবৈধদের জন্য ব্রিটেনে থাকা ও কাজের পথ বন্ধ করা।ইতিমধ্যে বর্ডার এজেন্সী ব্রিটেনের অনেক জায়গায় ধরপাকড় শুরু করেছে,অনেককে ধরেই সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে,নিয়োগ দাতাকে স্পট জরিমানা সহ নানা আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠাঙ্গুলো ভিসা ষ্ঠ্যাটাস পরীক্ষার অনলাইন প্রক্রিয়া শুরু করাকে স্বাগত জানানোর সিদ্দ্বান্ত নিয়েছে।

(ইউরোপীয় ইউনিয়নের বুলেটিন,বিভিন্ন অনলাইন নিউজ এজেন্সী,ইউনিয়নের ওয়েবসাইট,এবং ইমিগ্রেশন আইনজ্ঞদের সহায়তা ও পরমর্শক্রমে সংবাদটি প্রণিত )।

Salim932@googlemail.com

18th December 2011.

Published-Banglanews24.com

৩ Comments

Add a Comment

Your email address will not be published.