Home » কলাম » লাইভ ফান্ড রেইজিং- যুক্তরাজ্যে চ্যারিটির আদলে জমজমাট ব্যবসা

লাইভ ফান্ড রেইজিং- যুক্তরাজ্যে চ্যারিটির আদলে জমজমাট ব্যবসা

লাইভ ফান্ড রেইজিং- যুক্তরাজ্যে চ্যারিটির আদলে জমজমাট ব্যবসা

Submitted by syed shah salim… on Tue, 18/06/2013 – 2:15am

চ্যারিটি এক মহৎ কাজ- সন্দেহ নেই।এতে বিত্তবানদের দান, খয়রাত, জাকাত, সাদাকা ইত্যাদির মাধ্যমে মূলত গরীব, দুঃখী, অবহেলিত, ছিন্নমূল, নিরন্ন মানুষদের সাহায্য, সহায়তা করা হয়ে থাকে, যা ইসলামের মূলনীতিতে, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় যুগ যুগ ধরে তা চলে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি ব্রিটেনের কমিউনিটি চ্যানেল এবং বিশেষকরে বাংলাদেশ থেকে আগত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ব্রিটেনে ফ্রি-অন এয়ারে আসার পর থেকে এই লাইভ ফান্ড রেইজিং প্রোগ্রাম এতো ব্যাপকভাবে বেড়েছে যে, তা নেহায়েতই অনেকের কৌতূহলের উদ্রেক করেছে।

বেশ ক`বছর হলো, পবিত্র মাহে রমজান মাস আসা শুরু হলেই এক ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রমজানের প্রথম রাত থেকে একেবারে চাঁদ রাত(ঈদের রাত) পর্যন্ত মাগরিব তথা ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত থেকে শুরু করে শেষ রাত অবধি অর্থাৎ সুবহে সাদিক অবধি লাইভ চ্যারিটি প্রোগ্রাম বা ফান্ড রাইজিং এর উৎসবের আমেজ চলে আসছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও প্রতিযোগিতামূলক ভাবে নানা কমিশন, উপঢৌকন ও বিশেষ স্কিমের আওতায় প্রতিষ্ঠিত, অপ্রতিষ্ঠিত চ্যারিটি সংস্থাগুলোকে এই সব স্লট প্রদান করে থাকে। রমজান মাসে টেলিভিশনের এই সব স্লট পাওয়ার জন্য চ্যারিটি নামধারী সংস্থাগুলো বা তাদের কর্ণধারদের মধ্যে রীতিমতো একধরনের লটারির ন্যায় প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। অনেক প্রবাসী এবং সচেতন ব্রিটেনের বাঙালি এমনকি উঠতি তরুণ-তরুণীরা প্রায়ই এই প্রশ্ন করেন, যা পরবর্তীতে যখন লাইভ প্রোগ্রামের কখনো ফলোআপ করা হয়, তখন অনেককেই বলতে শুনা যায়, সারা রমজান মাস বাংলাদেশের এতিম, গরীব, মিসিকীনদের মাজে বণ্টন করার জন্য এতো সাহায্য যে উঠানো হয়, তা কি গরীব, এতিম জনগণের মাজে সত্যিকারভাবে পৌঁছানো হয় ? নাকি নামকা ওয়াস্তে শুধু ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমেই এর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় ? বাংলাদেশ সরকারের কোন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সরকার কি এব্যাপারে নজরদারি বা দেখভাল করার কোন ব্যবস্থা আছে কিনা ? কখনো টেলিভিশনের ঐ লাইভ প্রোগ্রামে প্রশ্নকর্তা যথার্থ উত্তর পান বলে মনে হয়নি।

সম্প্রতি ব্রিটেনের চ্যারিটি কমিশন বাংলাদেশের সারা রমজানের এই মাসব্যাপী লাইভ প্রোগ্রামের ফান্ড রেইজিং এর বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে এ ব্যাপারে কোন চ্যারিটি বা সংস্থা বাংলাদেশের নিরন্ন জনগণের সাহায্যের ব্যাপারে ফান্ড রেইজিং এর ব্যাপারে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধানের কাছে কখনো যোগাযোগ বা অবহিত করেছেন বলে তিনি মনে করতে পারেননি। বাংলাদেশ দূতাবাস এরকম আর্থিকভাবে দেশের জনগণের জন্য ফান্ড কালেকশনের জন্য কোন সংস্থাকেও অনুমোদন দেয়নি বলে জানালেন।

ব্রিটেনে কয়েক লক্ষ প্রবাসী জনগণের বসবাস।তার মধ্যে সিংহভাগ জনগণ সিলেট জেলার। অধুনা বিভিন্ন মুসলিম দেশের আরো কয়েক লক্ষাধিক মাইগ্র্যান্ট এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।ব্রিটেনের বাঙালি মালিকাধীন কমিউনিটি চ্যানেল- চ্যানেল এস ছাড়াও রয়েছে এনটিভি ইউকে-ইউরোপ, এটিএনবাংলা, চ্যানেল আই, চ্যানেল নাইন, বাংলা টিভি। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দুবাই, আমিরাত,ফিলিপাইন, আফ্রিকা ভিত্তিক আরো কিছু স্যাটেলাইট টিভি নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা একইভাবে নানা ইসলামিক অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে, মুসলমান মাইগ্র্যান্টদের কাছে সেসবেরও বেশ কদর ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইসলাম টিভি সহ কিউ টিভি, নূর টিভি, জিটিভি ইত্যাদি এই রকম জনপ্রিয় চ্যানেলগুলোর অন্যতম। এই সব চ্যানেলগুলোর মাধ্যমেও প্রতিনিয়ত এবং বিশেষ করে রমজান মাসে বাংলাদেশের গরীব লোকগুলোর সাহায্য সহায়তার জন্য ফান্ড কালেকশন করা হয়ে থাকে।

ইদানীং বাংলাদেশী টেলিভিশন চ্যানেল, ইসলাম চ্যানেল, ইক্করা টিভি, উম্মাহ টিভি, প্রভৃতি চ্যানেলে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন মাদ্রাসা,এতিম দাতব্য সংস্থা, চ্যারিটি নাম দিয়ে সারা রাত ব্যাপী বিভিন্ন মাওলানা, হুজুর, এবং ঢাকা, সিলেট, বরিশাল, নোয়াখালী থেকে আগত মেহমান, মোসাহেবদের উপস্থিতিতে লাইভ ফান্ড রেইজিং প্রোগ্রাম হতে দেখা যায়।রমজানের আগে আগে এই ধারা বেশ জোরে-শোরে শুরু হয়ে গেছে। হয়তো অনেকে রমজানের প্রতিযোগিতার স্লটের দৌড়ে নিজদের জন্য নির্ধারিত স্লট নাও পেতে পারেন, তাই আগে-ভাগেই ফান্ড রেইজিং এর উদ্যোগ।

দুর্যোগ, দুর্বিপাক, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, সাইক্লোন প্রভৃতির সময় যে সব চ্যারিটি বা সেবামূলক এপিল বা কার্যক্রম করা হয়, সেগুলো অবশ্যই আরো বেশী বেশী হওয়া উচিৎ।সে সবকে কোন অবস্থাতেই ব্র্যাকেট বন্দী, কটাক্ষ, সমালোচনা করা নয়, বরং সেসবের কাজ প্রয়োজনের সময় আরো নিরবচ্ছিন্ন ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ। তাবৎ জনগণ সেই সব চ্যারিটি বা সেবামূলক কাজ ও প্রয়োজনের সময় এপিলকে যথাসাধ্য সাহায্য, সাড়া ও সহযোগিতা করে থাকেন। সে কারণে স্বীকৃত, প্রতিষ্ঠিত এবং ব্রিটেনের বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব চ্যারিটির বাইরে ( এদের কার্যক্রম নিয়ে কারো কোন দ্বি-মত নেই, এবং এখানে সেই সব আলোচনার কোন উদ্দেশ্যও নয়) এমন সব অদ্ভুত, উদ্ভট নাম ও নতুন নতুন চ্যারিটির নামে হর হামেশা প্রকাশ্যে টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টের থ্রোতে ফান্ড কালেকশন করা হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের গরীব, এতিম, ও বিভিন্ন মাদ্রাসার কথা বলে ফান্ড কালেকশনে এখন অনেক প্রবাসীর মনে নানান প্রশ্ন উকি দিচ্ছে।রমজানের শুরুর আগেই এখন দেখা যাচ্ছে মাদ্রাসার সেই সব কর্তা আর চ্যারিটির প্রধানদের ব্রিটেনে আগমন এবং তাদের জানান দিয়ে আকর্ষণীয় বিজ্ঞপ্তি প্রচার।দেখা গেছে, যারা এই সব চ্যারিটি চালান বা ফান্ড রেইজিং করেন তাদের অধিকাংশই এখন লন্ডন, বার্মিংহাম, ব্রাডফোর্ড, মানচেস্টার এর রাস্তায় নতুন রেজিস্ট্রেশনের বিএমডব্লিউ, লেক্সাস এক্স-ফাইভ, জাগুয়ার, একেবারে নয়া হুন্ডা ইত্যাদি গাড়ী হাঁকিয়ে চলেন।এতেও কমিউনিটির মধ্যে বেশ কানা ঘোষা চলছে। কিন্তু এতো বড় মাওলানা, এতো গরীবের খেদমতগার, এতো দীনদার লোক নাখোশ হতে পারেন, তাই কিছুই সামনে বলতে বা প্রশ্ন করতে বিবেকে বাধে।

জানা যায়, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে রমজান মাসে একরাতের ফান্ড রাইজিং এর স্লট পেতে এখন নানা প্রতিযোগিতা চলে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও দেখছে, রমজান মাসের এইসব চ্যারিটি ইভেন্ট বা ফান্ড কালেকশন এপিল প্রোগ্রাম তাদের আয়ের প্রধান ও বিরাট একটা উৎস, যা সারা বছরের টেলিভিশনগুলোর নানা আয়ের চাইতে বৃহৎ ও লাভজনক, এবং একই সাথে অপ্রদর্শিত( ট্যাক্স বিহীন, ক্যাশ পেমেন্ট, যার কোন কাগজ-পত্রের দরকার পড়েনা) আয়, তাই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও সুযোগ বুঝে তাদের এই আয়কে হাতছাড়া না করে বরং এটাকে কিভাবে আধুনিক এক সুবিন্যস্ত ব্যবস্থায় আকর্ষণীয় ভাবে জনগণের কাছে তুলা যায়-প্রতিনিয়ত সব কটা টেলিভিশন চ্যানেল এখন সেই চেষ্টাই করে চলেছে।এতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিভিন্ন চ্যারিটির নামে ফান্ড কালেকশনের কোন বৈধতার ধার ধারছেনা বা ক্ষতিয়ে দেখারও খুব একটা অবকাশ মনে করছেনা। এখানে উভয় শ্রেণী ব্যবসায়িক দিক প্রাধান্য পাচ্ছে, আর বাংলাদেশের এতিম, গরীব, অসহায় মানুষগুলো ব্যবহ্রত হচ্ছে, প্রবাসী বাঙালি জনগণ এবং মুসলিম বিশ্বের জনগণ মুক্ত হস্তে দান করে চলেছেন, অশেষ সওয়াব ও পুণ্যের আশায়।প্রবাসী জনগণের ইমোশন বা আবেগকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

সাধারণত: একেকটি চ্যারিটি নাইট এপিলের জন্য চ্যারিটি উদ্যোক্তা বা কর্ণধার ও টেলিভিশন চ্যানেলের মধ্যে অলিখিত এক চুক্তি হয়ে থাকে, এই বলে যে, সারা রাতে টাকা যাই উঠুক, মোট ফান্ডের অর্ধেক, আবার কখনো ইভেন্ট বুঝে অর্ধেকেরও বেশী, কিংবা বিশেষ কমিশনে অর্ধেকের চাইতে কিছু কম টেলিভিশন চ্যানেলকে দিতে হয়। অর্থাৎ সারা রাতে যদি ৫০ হাজার বা ১ লক্ষ পাউন্ড উত্তোলিত হয়ে থাকে, তবে টেলিভিশন চ্যানেল নিবে ৫০ হাজারের মধ্যে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার আর বাকি সব চ্যারিটি ওয়ালার। অবশ্য এখানে একজন প্রেজেন্টারকে একরাতের জন্য ৫০০ পাউন্ড দিতে হয়। আর এই টাকাটা সকল-এই ত্রিমাত্রিক অর্থাৎ টেলিভিশন, চ্যারিটি, প্রেজেন্টার কাউকেই কোথাও প্রদর্শন করতে হচ্ছেনা। উপরন্তু টেলিভিশন চ্যানেল ট্যাক্স অফিসকে বলার মতো যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছে, ফ্রি অন-এয়ারের সুবাধে কমিউনিটির স্বার্থে সম্পূর্ণ চ্যারিটি ইভেন্টের জন্য সে তার স্লটের পুরোটাই চ্যারিটিতে দিয়ে দিয়েছে। আর চ্যারিটি ইভেন্টতো ব্রিটেনে ট্যাক্স ফ্রি। আর একজন প্রেজেন্টার বাড়তি পাওনা প্রতি ত্রিশ রাতে ৫০০ পাউন্ড করে যা আয় করলেন তাও অপ্রদর্শিত। এতে তার জব সিকার এলাউন্স, হাউজিং বেনিফিট, কাউন্সিল ট্যাক্স বেনিফিটে কোন ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্য বরং সোনায় সোহাগা বাড়তি এই আয়।কিন্তু প্রশ্ন হলো যে এতিম, অসহায় গরীব জনগণের কথা বলে প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রতি রাতে হাজার হাজার ছদকা, জাকাত, আর ডোনেশন টাকা কালেকশন করে হাজার হাজার পাউন্ড নেয়া হচ্ছে, তা কি সত্যিকারের কোন গরীব বা এতিম মাদ্রাসায় যাচ্ছে ? যদি যায় তাহলেতো ভালো কথা। আর তা যদি না হয়, তাহলেতো প্রবাসীদের জাকাত আর ডোনেশনের টাকায় প্রতারিত হচ্ছেন?

চ্যারিটির টাকার আর অস্বাভাবিক লেন-দেনের কারণেই ব্রিটেনের এইচএসবিসি ব্যাংক বেশ কিছুদিন আগে বিলিয়ন ডলারের উপরে জরিমানা গুনতে হয়েছে, তার উপর ব্যাংকটির উপর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সহ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কঠোর নজরদারি রয়েছে। ব্রিটেনের মাটি থেকে যেসব চ্যারিটি বা এতিম অসহায় গরীব ফান্ড নাম দিয়ে ব্যাংক হিসেব দেশের বিভিন্ন ইউকে ফাইন্যান্স হাউস ও ব্যাংকের বুথের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট লেন-দেন ও রেমিট্যান্স আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে, তাদের সেই সব ফাইন্যান্স হাউসের মূল একাউন্ট হোল্ডিং ব্যাংক ব্রিটেনের বার্কল্যাস ব্যাংক অতি সম্প্রতি বাংলাদেশী মালিকানাধীন সেই সব ফাইন্যান্স হাউস ও ব্যাংকের বুথকে চিঠি দিয়ে তাদের একাউন্ট ক্লোজ করার নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলেই বার্কল্যাস ব্যাংকের সেই চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন। বার্কল্যাস ব্যাংক এইচএসবিসির মতো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেনা। বাংলাদেশের লাখো গ্রাহকদের রেমিট্যান্স বৈধভাবে এই সব ফাইন্যান্স হাউসের মাধ্যমে পাঠানোর ফলে প্রতিদিনের হ্যান্ডলিং চার্জ বাবত এক বিশাল অংকের টাকাও বার্কল্যাস ব্যাংক হারানোর মতো ঝুঁকি নিতেছে। কারণ বার্কল্যাস এর হেড অব ষ্ট্র্যাটেজিক বিজনেস ডিরেক্টর স্পষ্টতই বলেছেন, প্রতিদিনের লাখ-লাখ পাউন্ডের অস্বাভাবিক অ-প্রদর্শিত লেন-দেনের ঝুঁকি ব্যাংকটি নিতে পারেনা।আর সেজন্যই ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে বলছে সকল একাউন্ট ক্লোজ করে নিতে, অন্যথায় ব্যাংক নিজেই ক্লোজ করে দিবে।চ্যারিটির নামে অ-প্রদর্শিত লেনদেনের অস্বাভাবিকতাই বর্তমানে বৈধভাবে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণে নিয়োজিত ফাইন্যান্স হাউস আর ব্যাংকের বৈধ বুথগুলো পড়েছে বড় বেকায়দায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট উইংকে এব্যাপারে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে অনেকেই ধারনা করছেন, বার্কল্যাসের মতো দায়িত্বশীল মার্কেট লিডার ব্যাংক এভাবে সকল একাউন্ট ক্লোজ করে দেয়ার নোটিশ শুধু শুধু বার্কল্যাসের ঝুঁকির আশংকার দিকে বিবেচনা করলে ভুল হবে। ব্রিটিশ ব্যাংকে বর্তমানে সব ধরনের কর্মকর্তা কাজ করে থাকেন। এতে যেমন রয়েছে মানি লন্ডারিং এক্সপার্ট, সন্ত্রাস বিরোধী এক্সপার্টরাও লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে থাকেন। অনেকের ধারণা, লাইভ টেলিভিশন ফান্ড রেইজিং এর অ-প্রদর্শিত অস্বাভাবিক রেমিট্যান্স লেন-দেনের বিষয়টি অবশ্যই বার্কল্যাসের নজরদারী এড়ায়নি।বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে লন্ডন থেকে বিভিন্ন রুটে টাকা প্রেরণের ও ফান্ডিং এর নানা সূত্রে ব্রিটেনের উঁচু মহলে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটা পত্র-পত্রিকাও ইতিমধ্যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।অফষ্টেড এবং ব্রিটেনের চ্যারিটি কমিশন ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।এতিম, গরীব ফান্ডের নাম করে দেশের ভিতরে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ফান্ডিং করা হচ্ছে বলে এখন অনেকেই যথেষ্ট সন্দেহ পোষণ করছেন, যেহেতু এখানে যথেষ্ট, স্বচ্ছ তদারকি ও অডিটের কোন ব্যবস্থা নেই।তা যেমন এই চ্যারিটির ক্ষেত্রে সত্য, একই সাথে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রেও সত্য।কারো তরফ থেকে কখনো কোন স্বচ্ছতা বজায়ের অবকাশ এর সুযোগ খুব একটা করা হচ্ছে বলে কারো কাছে প্রতীয়মান হচ্ছেনা। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফান্ডের সিংহ ভাগ যোগান এই ব্রিটেনের অবৈধভাবে সংগৃহীত চ্যারিটির মাধ্যমে যে লক্ষ-লক্ষ পাউন্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার নিরাপদ রুট প্রচলিত ব্যাংকিং কাঠামোর সুযোগে নামে-বেনামের এই গরীব-এতিম ফান্ডের উসিলা নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহ্রত হয়ে তা পর্যায়ক্রমে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলংকার তামিল টাইগার, আর নেপালের মাওবাদী ও গোর্খাদের হাতে চলে যাচ্ছে। সবই হচ্ছে এই চ্যারিটি ফান্ডের নামে। ব্রিটিশ সরকার হয়তোবা আচ বা সন্দেহ করতে পেরেই আগে-ভাগে বার্কল্যাসকে সতর্ক করে দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার যদি পরিপূর্ণ সতর্কতার সাথে এই সব অস্বাভাবিক রেমিট্যান্সের উৎস অনুসন্ধান করে যথাযথ নজরদারি ও অডিটের ব্যবস্থা না করে তবে এর ফলে বাংলাদেশ যে ভয়াবহ জঙ্গি নেটওয়ার্কের বা অধিক কট্ররগোষ্ঠীর আর্থিক উৎস সংগ্রহ, সরবরাহ, প্রবাহ, ও যোগানের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হবে বা হতে চলেছে বলে অনেক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ সহ বিশেষজ্ঞ গ্রুপের বিভিন্ন প্লেনারী সেশনে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আর এদিকে, খোদ ব্রিটেনের ভিতরে যে সব মসজিদ, মাদ্রাসা রয়েছে, তারা বরং এই সব গরীব ফান্ডের চ্যারিটি ইভেন্ট লাইভ আপিলের ধাক্কায় পড়েছেন বিপাকে। এতে ব্রিটেনের ভিতরের মসজিদ, মাদ্রাসার অর্থায়নে বা সাহায্যে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। কেননা ব্রিটেনের এই সব মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম সাহেব আর মসজিদ কমিটির লোকজন ওই ভাসমান চ্যারিটি ওয়ালাদের মতো ফেরিওয়ালা হতে পারছেননা। কেননা অর্থের যোগানদাতা, উৎস একই প্রবাসী জনগণ। রাতে লাইভ ফান্ড এপিলে সাহায্য করে দিনে আবার নিজেদের মসজিদ, মাদ্রাসায় সহায়তায় কিছুটা ভাটাতো পড়বেই।তাই বলে চ্যারিটির বিপক্ষে নয়, চ্যারিটি স্বাগতম, সত্যিকারের গরীব-এতিম ফান্ডে সহায়তা করতে আমাদের জনগণ সিদ্ধহস্ত এবং তাতে কেউ কোন কার্পণ্য করেননা।এখানে প্রশ্ন শুধু নামে-বেনামে ঐ অসংখ্য চ্যারিটি ওয়ালাদের অথচ হাই প্রোফাইল জীবন ধারণ, একই সাথে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সাথেও জড়িত। তাছাড়া ব্রিটেনের মসজিদ, মাদ্রাসার আলেম ও ইমাম সাহেবগণ, কমিটির লোকজন ইসলামী শিক্ষা ও জ্ঞান-গরিমার সাথে আধুনিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত, ফেরিওয়ালাদের সাথে স্বাভাবিকভাবে তারা পেছনে পড়ে আছেন মসজিদের, মাদ্রাসার ফান্ড সংগ্রহে। আবার টেলিভিশন চ্যানেল-ওয়ালা্রা ব্রিটেনের মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, আলেম সাহেবদের টকশোতে ডাকলেও মসজিদ,মাদ্রাসার ফান্ড সংগ্রহে এমন কোন ফ্রি লাইভ ইভেন্টের(কমিশনের টাকা ছাড়া) সহায়তা দিতে প্রস্তুত নন, বোধগম্য ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে। যে কারণে ইমাম সাহেব ও মসজিদ কমিটি এই রকম ফান্ড আপিল প্রোগ্রামে অনেকটা পিছিয়ে।

আগামী ৫ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেন সফরের কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র আভাস দিয়েছে, চেষ্টা চলছে, ব্রিটিশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের বা আলোচনার। আমাদের মাননীয় কর্তাব্যক্তিগণ যদি এক্ষেত্রে সফল হন, তবে আশা করবো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সময় এই বিষয়টি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করার, যাতে করে বাংলাদেশের লাখ-লাখ সাধারণ প্রবাসী জনগণ এবং নিছক স্বাভাবিক ব্যাংকিং খাত যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, একই সাথে এই সব ভাসমান চ্যারিটির ইভেন্ট এর মাধ্যমে ফান্ড কালেকশন যাতে যথাযথ নজরদারী, স্বচ্ছ জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়, উভয় দেশের সরকারের যৌথ উদ্যোগে ও কারগরি সহায়তায় কার্যকর ব্যবস্থা, যাতে করে বাংলাদেশ কোন অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ফান্ড সরবরাহের নিরাপদ রুট না হয়- তাতে দেশ ও দেশের জনগণ ও ব্যাংকিং সেক্টর সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে।

(সূত্র-বিগত চার বছরের লাইভ টেলিভিশন ফান্ড রেইজিং উপর ভিত্তি করে রচিত)

Tweet@Salim1689
14th June 2013.UK

Please follow and like us:

Add a Comment

Your email address will not be published.

Follow by Email
YouTube
Pinterest
LinkedIn
Share
Instagram
error: Content is protected !!