Home » কলাম » টেমসের ওপার থেকে সুলতান মনসুরের জন্য ভালোবাসা

টেমসের ওপার থেকে সুলতান মনসুরের জন্য ভালোবাসা

টেমসের ওপার থেকে সুলতান মনসুরের জন্য ভালোবাসা

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ- একসময়ের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি, ছিলেন স্বাধীনতা উত্তর ডাকসুর সবচাইতে জনপ্রিয় ভিপি, স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা। সুলতান যখন ছাত্রলীগের হাত ধরেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মুকুটহীন সম্রাট দুই ভ্রাতা সানাউল হক নীরো ও মাহবুবুল হক বাবলু, সঙ্গে চৌকুস অভী,মালেক,রতন,রিজভী,আসাদুজ্জামান রিপণ,তরুণ আমান-খোকন-দুদুদের দাপটে আর সাংগঠণিক প্রজ্ঞা আর দক্ষতায় টাল-মাটাল অবস্থায় ছিলো। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের মতো চৌকস, বাগ্মিতায় পটু, অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা আর দক্ষতার গুনে সুলতান মনসুর ছাত্রলীগের ঐ টাল-মাটাল অবস্থা থেকে ছাত্রলীগকে বলা যায় সঠিক ট্রাকে নিয়ে আসেন। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তখনকার সময়ে হয়ে উঠে স্বাধীনতা সংগ্রামের মতোই আন্দোলনের প্রধান চালিকা শক্তি।সুলতান যখন ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন, তখন ঐ সময়ের চলমান ছাত্র আন্দোলন তখনকার ডাকসুর নেতৃত্বে এক নতুন মাত্রা লাভ করে।

ছাত্রাবস্থায় সুলতান মনসুর এক মার্জিত রুচিশীল ছাত্রনেতা ছিলেন। যে বা যিনি সুলতান মনসুরের সান্নিধ্যে এসেছিলেন, অকপটে তিনি বা তারা একথার সাথে একমত হবেনই।কখনো অন্য কোন ছাত্র সংগঠনের নেতা-নেত্রী বা বিরুদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের প্রতি খারাপ আচরণ বা বিরাগভাজন হননি।সকল ছাত্র-ছাত্রী সহ নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের সহজেই অতি আপন করে নেয়ার এক দুর্দমনীয় মানবিক ক্ষমতার অধিকারী সুলতান।পূর্বসূরি অনেক জাঁদরেল ছাত্রনেতাদের কাছ থেকে জেনেছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যার সাথে একবার পরিচিত হতেন, তার নাম কখনো ভুলতেননা।ঠিক তুলনীয় নয়, আমার নিজের দেখা সুলতান মনসুরের সেই রকম অসম্ভব একটা গুণ আছে, যার সাথে একবার সুলতান পরিচিতি হয়েছেন, সারা জীবন তার নাম সুলতান মনে রেখে থাকেন-যা আজকাল রাজনৈতিক নেতা কিংবা কোন ছাত্রনেতার মধ্যে এই গুণ মেলা ভার।সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ ছাত্র সংগঠনের কর্মী হওয়া স্বত্বেও সুলতান মনসুর সূর্যসেন হলে থাকা অবস্থায় যখনি সময় পেতেন, যত রাতই হউক, একবারের জন্য হলেও খবর নিতেন হাসিমুখে। জীবনের প্রয়োজনে টেমসের পারে এসে আজও সুলতান মনসুরের সেই অকৃত্রিম ভালোবাসার গুণের কথা ভুলতে পারিনি।

জনসভায় বক্তৃতার মঞ্চে মন্ত্রমুগ্ধের মতো জনগণকে আঁকড়ে ধরে রাখার অসম্ভব এক ক্ষমতার অধিকারী সুলতান মনসুর। সুলতানের সর্বশেষ বক্তব্য আমি শুনেছিলাম, ঠিক মনে নেই, তবে যতটুকু মনে পড়ে সম্ভবত সেটা ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে হবে, সিলেটের কীন ব্রিজের নীচে বদরুদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী জনসভায় চট্টলার আরো এক রত্ন মহী উদ্দিন চৌধুরীর সাথে কামরানের নির্বাচনী জনসভায় সুলতান জনগণকে এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, পরদিন সিলেটের জনগণ কামরানকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছিলো। আর সেই যে কামরানের জয় সূচিত হয়েছিলো, আজও তা অব্যাহত আছে।

আওয়ামীলীগের চরম দুর্দিনে সুলতান মনসুরের মতো পরীক্ষিত নেতা বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে আওয়ামীলীগের ঝাণ্ডা নিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে রাখতেন।জীবনে কখনো সুলতান আওয়ামী রাজনীতির সাথে ডিগবাজী করেননি, যদিও অনেক লোভনীয় সুযোগ সুলতানের সামনে এসেছিলো। আজকে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যারা দলের ও নীতি-নির্ধারনীতে হর্তা-কর্তা হয়ে দেশ ও জনগণের উপর দণ্ড-মণ্ড গুঁড়চ্ছেন, তাদের অনেকেরই অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস অসংখ্য প্রশ্নে ঘেরা, কেউ কেউ সরাসরি বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের বিরোধীতাকারী ছিলেন। অথচ সুলতানদের মতো আওয়ামীলীগের নিরবচ্ছিন্ন এবং ডেডিকেটেড নেতা-কর্মীরা আজ আওয়ামীলীগের বাইরে, অথবা রাজনৈতিক স্বেচ্ছা নির্বাসনে কিংবাতো সুলতানের ভাষায় রাজনৈতিক কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। ফলে জাতি এই সব সত্যিকারের জন দরদী, মেধা সর্বস্ব, বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সৈনিকদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আজকে দেশের যে দৈন্য দশা, রাজনীতিতে যে পঙ্কিলতা ও অরাজকতা, সুলতান-মান্না-তোফায়েলদের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর ক্যালিভারদের যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো হতো-রাজনীতির মাঠে অবশ্যই অনেক গুণগত পরিবর্তন জনগণ দেখতে পেতো, সাংগঠণিকভাবে আওয়ামীলীগ অন্য যেকোন রাজনৈতিক দলের চাইতে অত্যন্ত ভালো অবস্থানে থাকতো।ফলে আওয়ামীলীগকে এখন ঐ সব পরগাছার সাহায্য নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী আর সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে নিভু-নিভু ভাবে জ্বলে উঠতে হতোনা, কিংবা আপোষের মতো অন্যায্য ও হিংস্র ভয়াবহ অকল্যাণকর রাজনীতির দিকে ধাবিত হতোনা।দুষে-গুণে মানুষ।একজন রাজনৈতিক নেতার কেবলমাত্র ১০০ভাগ গুণ থাকবে, কোন দুষ-ত্রুটি থাকবেনা- তা কি করে হয়। শুধু মাত্র গুণ হলেতো সে হয়ে যাবে ফেরেশতা না হয় দেবতুল্য, তাহলেতো তার দ্বারা রাজনৈতিক কল্যাণকর কোন কাজ করা সম্ভব হবেনা।দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ঘাত-প্রতিঘাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিপরীতে একজন রাজনৈতিক নেতা যেতেই পারে, কিংবা তার অবস্থান প্রকাশ করতেই পারে, তাই বলে সে একেবারেই দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে, নেতৃত্ব থেকে, তার যোগ্যতা ও মেধাকে কোন ধরনের প্রাধান্য না দিয়ে, শুধুমাত্র ঐ সমালোচনার প্রেক্ষিতে তাকে একেবারে নির্বাসিত রাজনৈতিক জীবনে রাখা হবে-এর নামতো গণতান্ত্রিক রাজনীতি, উৎকর্ষ রাজনীতি হতে পারেনা।অথচ একই অপরাধ করেও নামকরা দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, চোর-বাটপার পর্যন্ত আজ ক্ষমতার পাদ-প্রদীপে থেকে আওয়ামীলীগের ও দলের যে বারোটা বাজিয়ে দিতেছে প্রতিনিয়ত, সেদিকে দলের নেতৃত্বের যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। সুলতানের মতো বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের নিবেদিত সৈনিককে দল থেকে একেবারে দূরে ঠেলে দেয়াটা কতোটুকু যুক্তি সঙ্গত হয়েছে- সময় এসেছে তা খতিয়ে দেখার। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সে দিকে বিশেষ খেয়াল দিবেন বলে সাধারণ নাগরিক হিসেবে সেটা আশা করি।কারণ সৃজনশীল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাজই হলো সঠিক, মেধা ও যোগ্যতার লালন,পালন ও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়া, তাতে দলই বেশী লাভবান হয়। চাটুকার আর তোষামোদকারী নেতৃত্ব সাথে নিয়ে খোদ বঙ্গবন্ধুও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেননি, অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বাংলার সিংহ পুরুষ, যুগশ্রষ্ঠা বাঙালি এই জুলিও কোরীকে সেদিন প্রাণ দিতে হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের নির্মমভাবে শাহাদত বরনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আর ছাত্রদের মধ্য থেকে সিলেটের এই রত্ন সুলতান মনসুর ছাড়া সারা বিশ্ব খোজে প্রতিবাদ করার মতো আওয়ামীলীগের আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেদিনের প্রতিবাদে কাদের সিদ্দিকীকে যেমন দেশ ছাড়া হতে হয়েছিলো, সুলতান মনসুরকেও একইভাবে দীর্ঘদিন দেশ ছাড়া হতে হয়েছিলো।আফসোস কাদের সিদ্দিকী আজ আওয়ামীলীগের দ্বারা নব্য-রাজাকার উপাধি প্রাপ্ত, আর সুলতান মনসুর আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ সৈনিক হয়েও আজ নির্বাসিত।

সুলতান মনসুরের হাতের লেখা খুব চমৎকার। গুট-গুট অক্ষরে, স্পষ্টভাবে লিখেন, মনে হয় মুক্তোর মতো জ্বল-জ্বল করে।আমার বিয়ের সময় সুলতান মনসুর অনুপস্থিতির কারণে নিজের অপারগতা প্রকাশ করে দীর্ঘ একটা চিঠি লিখেছিলেন।বিরুদ্ধ রাজনৈতিক নেতাকে এতো গুরুত্ব দিয়ে আমি উনাকে দাওয়াত করায় সুলতান মনসুর আবেগে-আপ্লুত হয়ে আশীর্বাদ দিয়ে খুব সুন্দর করে লিখেছিলেন। বলেছিলেন, সিলেট সফরে উনি এসে দেখে যাবেন।আজকে প্রবাস জীবনে থেকেও সুলতান মনসুরের সেই সব গুণের কথা অকপটে শেয়ার করছি, নিছক ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সুলতান মনসুরের মধ্যেকার অতুলনীয় এক সমন্বিত গুণের মিশ্রণের সমাভিব্যবহারের দেখা পেয়ে।তাই স্বীকার করতে কোন দ্বিধা নেই।

প্রযুক্তির এই যুগে ফেইস বুক, টুইটার, গুগল প্লাস আমাদের সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেখে চলেছে এক অসামান্য অবদান। অনেকের সাথে দীর্ঘদিন ধরে হয়তো দেখা সাক্ষাত নেই, নেই কোন যোগাযোগ, অথচ ফেইস বুক আমাদের একে অন্যকে একেবারে কাছে নিয়ে এসেছে। আইরিশ সী কিংবা আটলান্টিকের অপারে থেকে একজন বাঙালি তার নিজের কোন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে টুইট কিংবা ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন, মুহূর্তেই দেখা গেলো বাংলাদেশের হ্রদয় থেকে তার সেই পুরনো কোন বন্ধু, রাজনৈতিক সহ-যোদ্ধা হুট করে সেই টুইট বা স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে জানান দিয়ে দিলেন বন্ধু আমিও আছি এখানে, তোমার জন্য শুভেচ্ছা।আটলান্টিকের অপারের বন্ধুটি সেই কমেন্টে আবেগে আপ্লুত হয়ে সেই পুরনো বন্ধুটির খুঁজে নিজের প্রোফাইলে তাকে এড করে নেয়।এই যে বন্ধন, এই যে যোগাযোগ, তা থেকে বিচ্ছিন্ন করার সাধ্য কার।সুলতান মনসুর দীর্ঘ পাঁচটি বছর নিজ দেশে, নিজ এলাকায়, নিজ দলের কাছে রাজনৈতিক বন্দী দশায় কাতরাচ্ছেন, জেলের মতো জীবন যাপন করছেন। একজন রাজনৈতিক নেতারতো জনগণের পাশে থেকে জনসেবা আর দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারেননা। বিশেষ করে সুলতান মনসুরের মতো রাজনৈতিক নেতারতো এমন বন্দীদশা মৃত্যু তুল্য। তারপরেও বঙ্গবন্ধুর এই অকুতোভয় সৈনিক অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সকল প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে দল ও নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন, যা আজকের যুগে অবশ্যই এর মেলা ভার।

সম্প্রতি ফেইস বুক স্ট্যাটাসে সুলতান লিখেছেন-(যা পত্র-পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে)-

স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও জয়বাংলা কোন দলের নয়
বাংলার জনগণের’
২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বঙ্গ-তাজ তাজউদ্দীন,  সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী, উপ-প্রধান জেনারেল এমএ রব, উপ-প্রধান একে খন্দকার, জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল খালেদ মোশাররফ, জেনারেল একেএম সফিউল্লাহ, জেনারেল মঈনুল হোসেন চৌধুরী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সহ সকল সেক্টর কমান্ডারদের এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, সেনাবাহিনী, বিডিআর, পুলিশ, আনসার সহ সকল জনগণকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।

সুলতান আরো লিখেছেন-

শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি ৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের মুখে প্রতিবেশী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সহ ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের জনগণকে- যারা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অস্ত্র দিয়ে, ১ কোটি শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের জনগণকে অভিনন্দন জানাই, যারা  সেদিন খুনি পাকিস্তানি ইয়াহিয়ার সামরিক জল্লাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
আজকের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাই। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, নুরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম রব, শাজাহান সিরাজ ও আবদুল কুদ্দুস মাখনকে। সুলতান মনসুর এর পরে লিখেছেন-
‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল ‘‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য।” এ যুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ, এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ১৯৬৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতির মধ্য দিয়ে আমি জনগণের কল্যাণার্থে কাজ করে যাচ্ছি, যার মধ্যেও রয়েছে আমার বিশ্বাস, চেতনা ও শ্রমের অংশীদারিত্ব। সুলতান মনসুর এই পর্যায়ে এসে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে লিখেছেন-জনগণের ভালবাসা, বিশ্বাস ও আস্থা একজন রাজনীতিবিদের শক্তির মূল উৎস, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য গত ৫ বছর যাবৎ জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা, চাহিদা ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার স্বীকৃত রাজনৈতিক ভূমিকা পদদলিত, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াস এবং জনগণের সেবা এবং ভূমিকা রাখার সকল পথ অবরুদ্ধ করে আমাকে “রাজনৈতিক কারাগারে” রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল ইনশাআল্লাহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তা প্রমাণ করবে।

সুলতান সত্যিই বলেছেন।কেননা তিনিতো বলা যায় এক ধরনের কারাগারেই আছেন। নিজের আক্ষেপ-আবেগ-অনুভূতির কথা তাই অকপটে পোষ্ট করেছেন।কিন্তু আওয়ামীলীগের তথাকথিত ঐসব নেতাদের মতো তিনি দলের কোন সমালোচনা করেননি, বিগত বছরগুলোতে করেছেন, ভুলেও তার কট্রর সমালোচকও এমন প্রমাণ দিতে পারবেননা। আর জনগণের ভালোবাসার প্রমাণতো সুলতান মনসুর বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে নবাব উদ্দিনের পক্ষে কাজ করে তাকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করে মহাজোটকে উপহার দিয়ে দলের নির্দেশ যেমন মেনেছেন, জনতার বাধ-ভাঙ্গা ভালবাসার জোয়ারে নবাব উদ্দিনের জয়ী করে নিয়ে আসা কেবল সুলতান মনসুরের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষেই সম্ভব- একথা রাজনীতির ময়দানে কুলাউড়ার জনগণের সাথে সকল রাজনৈতিক বোদ্ধারা একমত।

আফসোসের বিষয় হলো, আওয়ামীলীগ সাধারণত: নিজের একনিষ্ঠ লোকদের কদর করতে জানেনা। যেমন করেনি প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ব্যাপারে, যেমন করে করেনি জীবিত আব্দুল জলিল এমপির সাথে, প্রয়াত ফরিদ গাজী এমপির সাথে। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে এই সব নেতারা জীবনবাজী রেখে দলকে ঠিকিয়ে রেখেছিলেন। আব্দুর রাজ্জাকের মতো একজন খাটি দেশ প্রেমিক রাজনৈতিক নেতাকে অত্যন্ত অসহায়ভাবে, আর্থিক ঠানা-পোড়েনের মধ্যে লন্ডনের হাসপাতালে বলা যায় এক ঘরে থেকে নিষ্ঠুরভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিতে হয়েছিলো।সেদিন হাই কমান্ডের ভয়ে আওয়ামীলীগের শত-সহস্র প্রবাসী কোন দল বা নেতাদেরও লুকিয়ে তাদের এই নেতাকে এক নজর দেখার মধ্যে কোথায় যেন ভীতি কাজ করেছিলো (ব্যতিক্রম শুধু আব্দুর রাজ্জাকের সহযোদ্ধা বাংলাদেশের আরো এক বীর সৈনিক রাষ্ট্র দার্শনিক সিরাজুল আলম খান-প্রকাশ্যে আব্দুর রাজ্জাককে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন), তাও আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। অথচ তাদের মৃত্যুর পরে আওয়ামীলীগ তাদের এই নেতাদের জন্য কতোনা কদর আর মমত্ব-মিডিয়ার বদৌলতে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো।তাই ভয় হয় সুলতান মনসুরের মতো প্রতিভাবান রাজনৈতিক নেতা, বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সৈনিককেও না আমাদের অসহায়ভাবে হারাতে হয়।

সুলতান মনসুর- বাঙালির অযুত, অকৃত্রিম ভালোবাসা আর একরাশ শুভেচ্ছার সাথে মসজিদ-মন্দির-প্যাগোটায় আমাদের মিলিত অসাম্প্রদায়িক প্রার্থনা, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুণ-দীর্ঘজীবী করুন, জনতার অজস্র ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ও বলিষ্ঠ সৈনিক হয়ে আবার আপনি ফিরে আসুন স-মহিমায়, টেমসের অপার থেকে আপনার জন্যে আমাদের মিলিত ভালোবাসা।

Salim932@googlemail.com

27th March 2013.UK

Please follow and like us:

Add a Comment

Your email address will not be published.

Follow by Email
YouTube
Pinterest
LinkedIn
Share
Instagram
error: Content is protected !!