বিএনপি ও মিত্রদের তীব্র প্রতিবাদ, বিক্ষোভ আর কালোপতাকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা লন্ডনের সফর শুরু করেন (০১)

বিএনপি ও মিত্রদের তীব্র প্রতিবাদ, বিক্ষোভ আর কালোপতাকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা লন্ডনের সফর শুরু করেন (০১)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হিলটন হোটেলের প্রবেশ পথ ১৮ দল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা দখল করে হাসিনা বিরোধী শ্লোগান আর বিক্ষোভে ফেটে পড়লে নিরাপত্তার রক্ষায় দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ ভিন্ন কৌশলে ভিভিআইপি রাষ্ট্রীয় এই অতিথিকে হোটেলের পেছনের গেইট দিয়ে শেখ হাসিনাকে পৌছে দেন। এই সময় হোটেলের সামনে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী থাকলে বিএনপির প্রতিরোধের মুখে মূলত তাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে হোটেলের সম্মুখ পথে স্বাগত জানানোর সকল আয়োজন ব্যর্থ হয়।

সকাল থেকেই হিল্টন হোটেলের সামনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভীড় জমাতে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠণ এবং ১৮ দল, হেফাজত, জামায়াত, সাঈদী মুক্তি পরিষদ, আলেম-উলামা সংগ্রাম পরিষদ তাদের সাথে এসে যোগ দিলে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। বিএনপি সেখানে হাসিনা বিরোধী শ্লোগান আর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

 

ইতিপূর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন এসে পৌঁছলে লন্ডনের হিথরো বিমান বন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিজারুল কায়েস। সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের প্রেসিডেন্ট সুলতান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা সহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা

। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় লন্ডনের হিলটন হোটেলে। লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে শেখ হাসিনা এখানেই থাকবেন।

হিথরো থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিশেষ গেইট দিয়ে শেখ হাসিনাকে সরাসরি হোটেলে নেয়া হয়, নিবিড় নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে শেখ হাসিনা সেখানে অবস্থান করবেন।

এদিকে হিলটন হোটেলের সামনে আওয়ামীলীগ ও এর বিভিন্ন সংগঠণ সকাল থেকেই জড়ো হতে দেখা যায়।

অন্যদিকে,ইতিপূর্বে ঘোষিত বিএনপি ও তাদের সমমনাদের প্রতিবাদ কর্মসূচীর ভিত্তিতে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে হোটেলের অপর প্রান্তে বিপুল সংখ্যক বিএনপি ও ১৮ দলের নেত-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। হাতে নানান প্রতিবাদের ব্যানার আর ফেষ্টুন নিয়ে ১৮ দল, বিএনপি, হেফাজত, জামায়াত, সাঈদী মুক্তি পরিষদ, নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আলেম-উলামা সংগ্রাম পরিষদ ব্যানারে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলতে থাকে। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরি কুদ্দুস এবং সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ- এর নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠণের নেতা কর্মীরা শেখ হাসিনা বিরোধী এবং আওয়ামীলীগের জুলুম ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে। শেখ হাসিনা এখনি হোটেলের দিকে আসছেন এই সংবাদ মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত অগ্রবর্তী টিম প্রধানমন্ত্রী কে বহন কারী গাড়ী হোটেলের সামনের গেইটের দিকে না নিয়ে পেছনের গেইট দিয়ে প্রবেশ করাতে বাধ্য হন।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ী যখন পেছনের গেইট দিয়ে প্রবেশ করছিলো, তখন বিপুল সংখ্যক বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠণের নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু শ্লোগান আর হাসিনার সরকার নিপাত যাক শ্লোগানের তালে আহুত সমাবেশে বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস বলেন যুক্তরাজ্য বিএনপি সমগ্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাড়িয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তীব্রক্ষোভ ও প্রকাশ্য প্রতিরোধ ঘোষনা করছে। ‘যুক্তরাজ্যে যেখানেই হাসিনা, সেখানেই প্রতিরোধ’- র মাধ্যমে প্রবাস থেকে হাসিনার বাকশাল বিরোধী প্রত্যক্ষ আন্দোলন দেশে ও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিবে যুক্তরাজ্য বিএনপি। যুক্তরাজ্য বিএনপির এ আন্দোলনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সকল নাগরিক এগিয়ে এসেছেন। তাই এবার যুক্তরাজ্যের আন্দোলন হবে হাসিনার সরকার পতনের আন্দোলন। বাকশালী হাসিনা সরকার কোন ভাবেই এ আন্দোলনের টুটি চেপে ধরতে পারবেন না। এবার প্রতিরোধ হবে, নিপাত যাবে হাসিনা, এবার ধ্বংস হবে তার বাকশালী মসনদ।

বিএনপির সাধারন সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ বলেন নব্য বাকশালী শাসনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটি কোটি বাংলাদেশীদের তার নৈরাজ্যমূলক দলীয় শানসের যাতাকলে পিষ্ট করে লন্ডনে আসছেন টিউলিপের বিয়েতে আনন্দ করার জন্য। সমগ্র বাংলাদেশ হাসিনা ও তার সরকারকে বহু আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধুমাত্র অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে আছেন। তাই যুক্তরাজ্যের মতো গণতান্ত্রিক দেশে মানবাধিকার হরণকারি, খুনি শেখ হাসিনা কোন ভাবেই স্বাগত হতে পারেননা। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপি ব্রিটিশ সরকারসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিয়েছে তারা যেন দুর্নীতিবাজ, মানবাধিকার লংঘনকারী, খুনি ও গুমের রানী শেখ হাসিনাকে যেন সকল ব্যাপারে অসহযোগীতা করেন।সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনাকে যুক্তরাজ্যের সর্বত্র একইভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচীর মাধ্যমে অসহযোগিতা ও প্রতিরোধ করার আহবান জানানো হয় এবং তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানানো হয়।

সভায় উপস্তিত ছিলেন সাবেক সাধারন সম্পাদক এম এ মালিক, মিয়া মনিরুল আলম, ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম আজাদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব তৈমুজ আলী, ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ আখতার হোসেন টুটুল, ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুরুস সামাদ চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট আক্তার হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল্লাহ খান, আব্দুল হাই, মুজিবুর রহমান মুজিব, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক মেয়র গোলাম মর্তুজা, আব্দুল আজিজ সরদার, ব্যারিস্টার ওয়াসিফুর রহমান তালুকদার,আব্দুল হান্নান , শামিম আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মামুন,সহকারী সম্পাদক তাহির রায়হান পাভেল, সহকারী সম্পাদক ফেরদৌস আলম, সহকারী সম্পাদক করিম উদ্দিন,সাদেক হোসেন মসুদ,সহকারী সম্পাদক সহকারী সম্পাদক তাজ উদ্দিন, সহকারী সম্পাদক ব্যরিস্টার লিটন আফিন্দি, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম, মনসুর আহমেদ রুবেল, আহাদ নাসিম রেজা, সুজাতুর রেজা, খলিলুর রহমান , ১৮ দল নেতা মুফতি সদর উদ্দিন,ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ড: মুজিবুর রহমান, অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ময়না,প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সম্পাদক এম এ কাইয়ূম, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সম্পাদক আখতার মাহমুদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নিজামুল হোসেন জাহিদ, ত্রান সম্পাদক রেহান উদ্দিন, শিক্ষা সম্পাদক আব্দুল মজিদ তাহের, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক খসরূজ্জামান খসরূ, সহকারী আইন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মোল্লা, প্রফেসর এম ফরিদ উদ্দিন, সহকারী ধর্ম সম্পাদক মাওলানা শামিম আহমদ, নির্বাহী সদস্য আব্দুল বাসিত, রহিম উদ্দিন,

হাজী রফিক মিয়া, কামাল হোসেন ,মিজানুর রহমান মিজান ,কামাল চৌধুরী ,রুহুল ইসলাম ,মিসবাহুজ্জামান সোহেল, গোলাম রববানী, মিসবাহ উদ্দিন, তফাজ্জল হোসেন, এম এ শহিদ, আসাদুজ্জামান আকতার, আব্দুর মলিক কুঠি, নাসির আহমদ শাহিন, মঞ্জুর আহমেদ শাহনাজ, এমদাদুল হক পাবেল, হাবিবুর রহমান কাইয়ুম, শেখ আলি আহমদ, হেভেন খান, এস এম লিটন, ইকবাল হোসেন, আবুল হোসেন, মঞ্জুর আশরাফ খান, টিপু আহমদ, জিয়াউল ইসলাম, আফজাল হোসেন, বাবর চৌধুরী, এম এ সালাম, এনামুল হক এনু, সালিক আহমদ, মাষ্টার আনোয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন, এম এ খলকু, আব্দুর হাকিম, মোতাহের হোসেন লিটন, আব্দুল হক রাজ, শামিম আহমদ, দেলোয়ার হোসেন দিপু, জালাল আহমদ, আব্দুল ওয়াদুদ সাহেল, আব্দুল ওয়াহিদ, তাসবিন চৌধুরী শিমুল, সফিকুল ইসলাম রিবলু, আহবাব হোসেন বাপ্পি, অঞ্জনা আলম, জহুরুল ইসলাম শামুন, মতিউর রহমান, এম এ কাদির, নুরুল ইসলাম, খলিল উদ্দিন ফল, জালাল উদ্দিন চৌধুরী, আবু হেনা আজিজ, নাজমুল ইসলাম লিটন, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

 

এদিকে পরদিন সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে ব্রিটিশ ফরেন সেক্রেটারি উইলিয়াম হেগ শেখ হাসিনার সাথে তার হোটেল স্যুটে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাত কালে উভয় নেতাই দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন। কাল প্রাতরাশ সভাতে হাউস অব লর্ডসের এবং কমন্স সভার বেশ কিছু সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করবেন বলে জানা গেছে।

আগামীকাল বিকেল বেলা প্রবাসী ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে কর্মসূচী রয়েছে।

চলবে…।

Salim932@googlemail.com
4th July 2013.

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *