সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সাথে সরকারের আচরণ অগণতান্ত্রিক, অগ্রহণযোগ্য

সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সাথে সরকারের আচরণ অগণতান্ত্রিক, অগ্রহণযোগ্য

সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সাথে সরকারের আচরণ অগণতান্ত্রিক, অগ্রহণযোগ্য

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

 

ব্রিটেনে একপ্রকারের প্রাণীর বাহন আছে, যা শুধু ওয়াইনের বিশাল-বিশাল পিপা একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেনে নিয়ে চলে।সেই বাহনের উপরে থাকে কম বয়সী দিকনির্দেশক আরোহী, যার কাজ হলো সপাং সপাং করে হাতে থাকা ছড়ি মাজে মধ্যে ঘোরানো, যাতে ঐ প্রাণী আরো দ্রুতবেগে বয়ে চলে। ব্রিটেনে থাকেন সকলের কাছে হঠাৎ হঠাৎ রাত-বিরত কিংবা রবিবারে সকালে রাস্তার মাজ দিয়ে খট-খট শব্দে চলা সেই বাহনের নাম গৃহিনী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত সকলেই জানেন। জিজ্ঞেস করলে সকলেই বলবেন একবাক্যে ঐ চলেছে ভক্সহল ঘোড়া-মদের পিপা নিয়ে।তো এই ভক্সহল ঘোড়ার কাজ হলো পিপা পীঠে নিয়ে চলতে থাকা, সামনের দিকে-ডানে,বায়ে,পেছনে সে কিছুই দেখেনা, কারণ তার দেখতে মানা।তার মুখে এমনভাবে লাগাম আঁটানো থাকে, যাতে সে সামনে চলা ছাড়া তার আশে-পাশে আর কিছুই দেখেনা। আর প্রবাসের বাঙালি সমাজে একে অন্যকে রাগান্বিত হলে বা ঠাট্রাচ্ছলে বলেন, ওতো ভক্সহল ঘোড়ার মতো সামনে ছাড়া আগে-পিছে কিছুই দেখেনা।প্রিয় পাঠক শুরুতেই এই ঘটনা অবতারণা করলাম, আজকের প্রসঙ্গে যুৎ সই উপস্থাপনের জন্য- তো এই বিষয়ে আসছি আরো একটু পরে।

 

 

 

বাংলাদেশের রাজনীতির ভাগ্যাকাশে এখন অনেক খেলা চলছে। কে যে কোনদিকে খেলছে, কিছু বুঝার আগেই নাটকের দৃশ্যপটে আরো এক খেলা আপনা আপনি মঞ্চস্থ হয়ে চলেছে।আর সব কিছুর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন ক্ষমতাসীন দলের হাই কমান্ড, বেশ দক্ষতার সাথেই খেলে চলেছেন। আর এই খেলার সর্বশেষ শিকার হলেন আমারদেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

মাহমুদুর রহমান- সত্যি একজন সাহসী, দক্ষ লেখক, সম্পাদক। প্রচলিত রাজনৈতিক সমন্বিত শক্তি আর ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই শুধু নয়, তার নিজের পার্টি বিএনপির সকল কেন্দ্রীয় ও প্রায় সকল স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ঠুনকো গাড়ী ভাঙ্গার মতো ছিচকে অভিযোগ দিয়ে যেভাবে দলে দলে একসাথে জেলে ঢুকানো হয়েছে, বলা যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটা একটা বড় ধরনের এবং একইসাথে খারাপ একটা দৃষ্টান্ত হিসেবেই রইলো- সেক্ষেত্রে মাহমুদুর রহমান, একাই এই অসম্ভব শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় সকল শক্তি এবং সরকারের সহযোগী নতুন জাগরণী তরুণ শক্তির বিপরীতে কেবলমাত্র মনোবল, মেধা, চিন্তা আর উদ্ভাবনী শক্তির বলে নিজের মতো করে খেলে চলেছিলেন। এটা নিঃসন্দেহে মাহমুদুর রহমানের এক সাহসী সম্পাদকের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবেই বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থান করে নিবে, নির্দ্বিধায় একথা বলা যায়।

শাহবাগের জাগরণ মঞ্চে যখন গোটা বাংলাদেশ উপচে পড়ে, ঠিক তখনি মাহমুদুর রহমানের মতো সাহসী একজন মাত্র সম্পাদক গোটা জাগরণী মঞ্চের ত্রুটি-বিচ্যুতি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ এবং ক্ষুরধার যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরেন- যা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ মাহমুদুর রহমানের লেখনী লুফে নেয়। শাহবাগের বিশাল জাগরণী শক্তির পাদ-প্রদীপে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে একজন মাত্র সম্পাদক লেখক মাহমুদুর রহমান গোটা বাংলাদেশকে অত্যন্ত সুকৌশলে নিজের দিকে নিয়ে আসতে এতোই সক্ষম হন যে, সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকম কোন সম্পাদক বা লেখকের লেখনীর মাধ্যমে সম্ভব হয়নি। আর এখানেই সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সার্থকতা, যা তাকে করে তুলেছে জনপ্রিয় সম্পাদকের আসনে সমাসীন। যে কারণে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গ্রেপ্তারে বিশ্ব অনলাইন মিডিয়া আল জাজিরা, ওয়াল ষ্ট্রীট জার্নাল, নিউ ইয়র্ক টাইমস, রয়টার সহ সকল মিডিয়ায় বিশাল এক স্থান দখল করে নেন গরীব এক দেশের নেহায়েত এক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। আর এভাবেই একজন সাধারণ সম্পাদক থেকে বিশ্ব মিডিয়ার তারকা খ্যাতিতে ভূষিত হয়ে যান এই মাহমুদুর রহমান।

সম্পাদক, সাংবাদিকের কাজই হলো সঠিক তথ্য নির্ভর সংবাদ জনগণের সামনে নিয়ে আসা। সরকারের অন্যায় কাজের কঠোর সমালোচনা করা, দেশ ও জাতির কল্যাণমূলক চিন্তা, ধ্যান-ধারণা প্রকাশ করা।আর গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্ন মতের প্রকাশ, ভিন্ন আদর্শ ও দর্শনের পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সরকারের কঠোর সমালোচনা করেই বলে কি এই সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে হবে নাকি ? ভিন্ন মত, ভিন্ন পথ বলেই কি আমারদেশের প্রেসে তালা লাগিয়ে দিতে হবে ? এর নামতো গণতন্ত্র নয় ?

মাহমুদুর রহমান যদি জরুরী জনস্বার্থ বিরোধী কিংবা দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করে থাকেন, সরকারের কাছে যদি এমন কোন অকাট্য প্রমাণ থাকে, তবে সেক্ষেত্রে সরকার আইনের আশ্রয় নিতে পারে, প্রেস কাউন্সিলে মামলা করতে পারে। সরকারতো আগে এই সবের কিছুই করেনি। যেভাবে, যে কায়দায় একজন সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা কিছুতেই সভ্য সমাজে কাম্য নয় এবং গ্রহণযোগ্য নয়। দুষে-গুণে মানুষ।যে মানুষের একশটি গুণ থাকবে, তার মধ্যে একই সাথে কিছু না কিছু দূষও থাকবে। শুধু মাত্র গুণ থাকলেতো সে মানব হতে পারেনা, অতি মানব বা ফেরেশতা হয়ে যাবে। মাহমুদুর রহমানতো কোন পলাতক আসামীও নন, ডাকাতি মামলার কোন ফেরারী নন, খুনি নন, তাহলে চোর-ডাকাতদের সাথে পুলিশ ও প্রশাসন যে আচরণ করে, একজন প্রথিতযশা সম্পাদকের সাথে প্রশাসন সেই রকম আচরণ কিংবা তথাকথিত রিমান্ড গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা আমরা কোন জংলী, অসভ্য সমাজে বাস করছিনা। তাহলে একজন সম্পাদককে ১৩ দিনের রিমান্ডের কোন যৌক্তিক কারণ থাকতে পারেনা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের একটা সীমা রেখাও থাকা উচিৎ।

সরকার যদি মাহমুদুর রহমানকে অপরাধী হিসেবে ধরে নিতো, তাহলে আরো আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতো। বলা হচ্ছে, মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশে সংঘাত, হত্যা, ইসলামী জাগরণ উস্কে দিয়েছেন। আর তার উল্টো পিঠে তার সমর্থক ও অনুসারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। যখন স্কাইপ কেলেঙ্কারি হয়, পরবর্তীতে যখন সেটা আমারদেশে প্রকাশিত হয়, তখন সরকারের ঠনক নড়েনি।এমনকি খোদ বিচারপতি নিজামুল হক এই স্কাইপ কেলেঙ্কারি আমারদেশে প্রকাশের পর নিজে থেকে যখন সরে গেলেন, তখন সরকারের তরফ থেকে এই সংবাদ প্রকাশের যথার্থতা, নিরপেক্ষতা, অবাধ মত প্রকাশের সীমারেখা, জরুরী জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোন মত জোরালো ভাবে যেমন প্রকাশ করা হয়নি, একইভাবে পার্লামেন্ট এবং এর বিভিন্ন কমিটি সক্রিয় থাকা স্বত্বেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকা স্বত্বেও কোন আলোচনা, মাহমুদুর রহমানকে সংসদীয় কমিটি তলব না করে বরং অবাক ও আহত হয়ে লক্ষ্য করলাম বিচারপতি নিজামের স্বেচ্ছা চলে যাওয়াতে সরকার যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো-এমন এক ধারণা জনমনে বদ্ধমূল হওয়ার সুযোগ করে দিলো।অথচ তখনি ছিলো সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের মোক্ষম একশন গ্রহণের সময়।    প্রজন্ম চত্বরে যখন উপচে পড়া ভিড়, তখন মাহমুদুর রহমান শুরুতে এর বিরুদ্ধে কিছু লেখেননি, যখন ক্ষমতাসীন সরকার এবং সরকারের সহযোগী প্রকাশ্যে প্রজন্ম চত্বরে আসলেন, সমর্থন করলেন, স্বাভাবিকভাবে এর বিপরীত মতের অবস্থান ও আদর্শ হেতু মাহমুদুর রহমান এর বিপরীতে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে থাকলেন। এটাই স্বাভাবিক। সরকার এবং মাহমুদুর রহমান- দুই মেরুর, দুই আদর্শের বাসিন্দা, এখানে বিরোধিতা ও রাজনৈতিক লড়াই থাকাটাই স্বাভাবিক। এখানে সরকার যেমন খেলেছে প্রকাশ্যে ও গোপনে, মাহমুদুর রহমানও প্রকাশ্যে এবং গোপনে খেলেছেন- আর এই খেলাতে কে বেশী লাভবান সেটা বলার এখনো সময় আসেনি।তবে এই খেলা খেলতে গিয়ে উভয় পক্ষই সীমারেখা লঙ্ঘন করেছেন। তাই বলে প্রতিপক্ষ বা একপক্ষ হিসেবে মাহমুদুর রহমানকে একা কেন কারাবরণ করতে হবে ? আদালত ও বিচারের হাত সবার জন্য সমান হওয়া উচিৎ। ক্ষমতার দণ্ড-মুণ্ড নিয়ে শুধু প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো- এমন নজির একচোখা তথা ভক্সহল ঘোড়ার মতোই, যা শুধু সামনের দিকটাই দেখে, আশে-পাশে ও পেছনের কিছুই দেখেনা। কিন্তু উন্নত মানব সভ্যতায় আইন অন্ধ হলেতো চলেনা, চলতে পারেনা। আর সেকারণেই এই মুহূর্তে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার সরকারে দুরভিসন্ধিরই বহিঃপ্রকাশ।মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে, আমারদেশে তালা ঝুলিয়ে বিরুদ্ধ মত ও পথকে ভক্সহল ঘোড়ার মতো লাগাম বন্ধ করার সরকারের এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য এক খারাপ দৃষ্টান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। আবার পবিত্র কাবা ঘরের ছবি রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে প্রকাশ অবশ্যই নিন্দনীয় এবং গর্হিত কাজ। প্রশ্ন থেকে যায় তিনি কি ইচ্ছায় নাকি অজান্তে সেটা প্রকাশিত হয়েছে। আবার কেউ কি সংবাদ প্রকাশে মাহমুদুর রহমানকে এক্সপ্লয়েট করএছেন কিনা? যেভাবেই হউক সম্পাদক হিসেবে তিনি সে দায়িত্ব এড়াতে পারেননা। আর সেজন্যেই আমাদের এখানে প্রেস কাউন্সিলকে আরো শক্তিশালি করা প্রয়োজন।

ইসলামের ইতিহাসের প্রখ্যাত ইমাম, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল তার সময়কালীন অত্যাচারী শাসকের শত অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে ইমাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাদিস থেকে জনসমাবেশে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন , আজও বিশ্ব ইতিহাসে অত্যন্ত সময়োপযোগী এক দৃষ্টান্ত হিসেবেই আছে। সেদিন ইমাম হাম্বল বলেছিলেন, অত্যাচারী শাসকের সম্মুখে সত্য কথা উচ্চারণ করা উত্তম জিহাদ। ইসলাম, আল্লাহ-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কটূক্তি প্রকাশ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য প্রকাশের বিপরীতে একজন মুসলমান হিসেবে আল্লাহ-রাসূলের(সা:)পক্ষে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন এবং তা প্রকাশের মধ্যে এমন কোন দুষ বা নৈতিকতা বিরোধী কাজ হয়েছে বলে দেশের সাধারণ এবং ইসলাম ও নবী প্রেমিক কোন জনগণই মনে করেননা। আর বিশ্ব মণ্ডলী সৃষ্টির পর থেকেইতো সত্য-ন্যায়, ইসলাম ও ইসলাম বিরোধী এবং অন্যায় ও অত্যাচারীদের দ্বন্ধ, সংঘাত চলে আসতেছে, কেয়ামত অবধি থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। কেননা সকলেই যদি ইসলাম প্রেমিক, নবী প্রেমিক হয়ে যায়, তাহলেতো এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মহত্ব আপনি আপনি শেষ হয়ে যায়। মাহমুদুর রহমান সম্পাদক এবং একইসাথে মুসলমান, নবী প্রেমিক হিসেবে আল্লাহ ও রাসূলের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন, জনগণকে নিজের দিকে ধাবিত করে নিয়ে এসেছেন, শাহবাগের জাগরণের বিপরীতে ইসলামিক জাগরণ হেফাজতের নব শক্তির উন্মেষ ঘটাতে ভূমিকা রেখেছেন- এটাতো অন্যায় কিছু নয়। রাজনীতির ময়দানে দুই পক্ষ খেলে চলেছেন, ক্যালিভারিটির দৌড়ে একজন এগিয়ে যাবেন, বিপ্লব ঘটাবেন, অপরজন বা অপর গোষ্ঠী পেছনে পড়ে যাবেন এটাইতো স্বাভাবিক। তাই বলে একজন সম্পাদকের সাথে গোটা রাষ্ট্র-যন্ত্র যুদ্ধ ঘোষণা করবে কেন? সম্পাদককে মাসের পর মাস তার পত্রিকা অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে, এটাতো সভ্যতা ও সুশাসনের লক্ষণ নয়। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে আশা করতে পারি। কেননা আশাহীন অবস্থায়তো মানুষ বাচতে পারেনা। মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে সরকার গণতান্ত্রিক সুশাসনের পথের চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপনে সহায়ক –একথা প্রমাণ করে দিতে পারে।

Salim932@googlemail.com

11th April 2013.

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *