নতুন জোট এনডিএফ এবং একজন আ স ম আবদুর রব-শেষ সময়ে যে ভুলটি করে বসলেন

নতুন জোট এনডিএফ এবং একজন আ স ম আবদুর রব-শেষ সময়ে যে ভুলটি করে বসলেন

বেশ কিছুদিন থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক জোট তথা তৃতীয় শক্তির অভ্যুদয়ের আলোচনা বার বার আলোড়িত হচ্ছিলো। বিশেষ করে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেত্রীদের সীমাহীন একগুঁয়েমি, দুই জোটের গুণ্ডামি, আদিম বর্বরতা আর জনগণকে জিম্মি করে তাদের রাজনৈতিক খায়েস চরিতার্থ করার জন্য হেন কোন ফন্দি ফিকির এরা করেনি, যা বলার আর অপেক্ষায় রাখে।

এমনি এক অসহনীয় অবস্থায় জনগণও এখন ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছিলো, এই দুই জোটের নেত্রী ও দুই বৃহৎ দল নিয়ে বাংলাদেশের বিরাজমান সমস্যার পাহাড় সমাধানের পরিবর্তে যে তিমিরে ছিলো, সেই তিমিরেই রয়ে যাবে। জনগণ তখন পথ খুজছিলো। ধীরে ধীরে এমন আওয়াজও জনগণের ভেতর থেকে উঠে আসছিলো। মানুষ আস্তে আস্তে সাহস সঞ্চয় করছিলো কি করে এই দুই দলের জগদ্দল পাথরের কব্জা থেকে বের হয়ে আসা যায়।

 

এই অবস্থার মধ্য দিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না যখন নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে নতুন জাগরণের ডাক দিলেন, তখন কিছুটা আশার আলো সঞ্চারিত হলো। কিন্তু মানুষ বিগত ৪২ বছর ধরে অনেক প্রতারিত হয়েছে, চোখের সামনে দেখেছে নেতা-নেত্রীরা তাদের স্বার্থের উপর পা রেখে কেমন করে বিক্রি হয়ে গেছেন।তাই মানুষের মনে শঙ্কা এবং ভয়- এরা পারবেতো? এমনি করেই ধীরে ধীরে মানুষ যখন সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিলো। এরই মাঝখানে ডঃ কামাল এবং কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, বদরুদ্দোজা চৌধুরী একই রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবী নিয়ে মাঠে এগিয়ে এলেমানুষের মনে আরেকটু সাহস সঞ্চয় হয়।

কিন্তু এই অবস্থার মধ্যে রাজনীতিতে অনেক নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যায়। হেফাজত নামক অরাজনৈতিক ইসলামিক এক সংগঠন সকল হিসেব নিকেশ তছনছ করে দেয়। যুদ্ধাপরাধী বিচার নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নামক সংগঠনের সীমাহীন তাণ্ডব আর নিজ দেশের জনগণের ভিতর যুদ্ধংদেহী অবস্থার কার্যক্রম মানুষকে আরো ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলে।

মানুষ দেখতে থাকে ৪২ বছর ধরে চলে আসা আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াত ও তাদের নেতা-নেত্রীরা মূলত মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ ছাড়া আর কিছুই নয়।

মানুষ তার নিজেদের প্রয়োজনেই এখন এই দুঃসহ অবস্থা থেকে নিজেদের নেতৃত্ব খুঁজে নিতো।দেয়ালে যখন পীঠ টেকে যায়, তখন অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই যুগে যুগে জনসমষ্টি তার নেতা নির্বাচন করে নিতে ভুল করেনি। যেমন ভুল করেনি ৪০ লাশের লাহোর প্রস্তাবে শেরে বাংলা ফজলুল হককে চিনে নিতে, ঠিক তেমনি ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে বেছে নিতে ভুল করেনি।

বাংলাদেশের বর্তমান যে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে, আমার বিশ্বাস জনগণের এই প্রকৃত রাজনৈতিক সমস্যা চিহ্নিত করে দিল্লীর আম আদমির ন্যায় একজন কেজরিওয়ালা যখন জনতার দাবী নিয়ে রাজপথে জনগণকে সংগঠিত করার ডাক দিতো, বাংলাদেশের জনগণ সেই একজন কেজরিওয়ালকেই বেছে নিতো। বাংলাদেশের সামনে কেজরিওয়ালকে বেছে নেওয়ার সময় এগিয়ে আসতেছে।

এহেন সংকটময় রাজনৈতিক অবস্থায় যে জোট গঠিত হয়েছে, সেটা অবশ্যই জনগণকে আশার আলো দেখাতে পারতো। কিন্তু যে পরিস্থিতিতে ও যে অবস্থার আলোকে গঠিত হয়েছে, তা মোটেই আশার আলোর পরিবর্তে নিছক এক জোট গঠনের সংবাদ শিরোনাম ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের ৫৮ থেকে ৫৯% জনগণ চাচ্ছিলো, এমনকি দুই বৃহৎ দলের সত্যিকার দেশপ্রেমিক এবং সংবেদনশীল মনের রাজনৈতিক নেতৃত্বও চাচ্ছিলো, এই তিন আপদের বিপরীতে সত্যিকারের জনগণের দাবী দাওয়া নিয়ে, রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক কালচার পরিবর্তনের লক্ষ্যে আম জনতার নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হউক। জনগণ চাচ্ছিলো শুধু আ স ম আবদুর রব একা নন, শুধু মাহমুদুর রহমান মান্না বা ডঃ কামাল একাল নন, এই সকল সহ জনগণের বৃহৎ অংশের পেশাদার, বিভিন্ন কর্মের, বিভিন্ন শ্রেণীর, সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত দেশপ্রেমিক অংশ সহ সকল অংশের মিলিত শক্তির এক নয়া উন্মেষের রাজনৈতিক জোট হউক। বিভিন্ন জেলা উপজেলার নানা দেশপ্রেমিক শ্রেণীর সকল মিলিত শক্তি এক কেন্দ্রে সমবেত হয়ে সাধারণ জনগণের মিলিত শক্তি প্রচলিত এই তিন রাজনৈতিক স্রোতের বিপরীতে আগামী নির্বাচনে ভোট বিপ্লব ঘটাবে- মানুষ এমনটাই আশা করছিলো। কিন্তু দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা গেলো, বহু চেষ্টা ও দেন দরবার করেও এই সব দল ও শক্তি নিজেদের মধ্যে এক হতে না পেরে রণে ভঙ্গ দিয়ে তিন দলের এক নয়া জোট গঠন করে বসে। মন্দের ভালো এটা বলতেই হবে। কিন্তু এই তিন দলের দুই নেতাই ইতিমধ্যে সকল জোটের সাথে দেন দরবার করে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা একেবারে তলানিতে নিয়ে এসেছেন। এই অবস্থায় শেষ ভরসা হিসেবে এই দুই নেতা আ স ম আবদুর রবের ঘারে সওয়ার হয়ে আগামী নির্বাচনী বৈতরণীতে জনতার পক্ষে কতোটুকু জোয়ার তুলতে সক্ষম হবেন- তা নিয়েও রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। আবার কখনো আওয়ামীলীগ, কখনো বিএনপি, সময়ে সুযোগে জামায়াতের সাথেও লিয়াজো করে কাদের সিদ্দিকী, বদরুদ্দোজ্জা – আ স ম আবদুর রবের সাথে মিলে কতোটুকু তিন জোটের বাইরে নতুন জোটে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে একত্রিত করতে সক্ষম হবেন সেটাও মস্ত বড় প্রশ্ন।

জোট করার পরেও বদরুদ্দোজা তার স্বভাব ও সহজাত মিত্র বিএনপির সাথে লিয়াজো ও প্রকাশ্যে বিএনপির প্রতি সমর্থন ও অবস্থান, নতুন রাজনীতি ও তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের পথে প্রধান অন্তরায়। কাদের সিদ্দিকীর ভুমিকাও অত্যন্ত সন্দেহ জনক, যেমন এরশাদ-জাফরের নাটক। এ সবই যেন আজকে কোন এক নাটাইয়ের সূত্রে কলকাঠি নাড়াচাড়া করছে। কাদের সিদ্দিকী বদরুদ্দোজা প্রকাশ্যেই বিএনপি ও জামায়াত প্রশ্নে কোন রাখ ডাক নেই। অথচ তৃতীয় এই জোটের ঘোষণা পত্রে বলা হয়েছে তত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে রাজনীতিতে এই বারে বার মারামারি আর হানাহানি বন্ধ করতে পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ বা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টারি সরকার গঠন করে সেখান থেকে এর স্থায়ী সমাধান। বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামীলীগ কেউই সেটা মানেনা মানবেওনা। আবার এই তিনজন বলেছেন, দুই বারের বেশী কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেননা- এমন ঘোষণা দিতে সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াত আমৃত্যু তাদের নেতাদের সরাতে রাজী নয়, তারা মানেনা । এটা জেনে শুনে কাদের সিদ্দিকী বদরুদ্দোজা বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সাথে আপোষের বা ঐক্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রকাশ্যে। সেজন্যই বলছি, এই দুইজন এখনো জনগণের নেতা হয়ে উঠার জন্যে নিজেদের কাছে নিজেরাই পরিষ্কার নন। এরা স্রেফ একটা ষ্ট্যান্ট চান। এদের এই ষ্ট্যান্টের উপর ভর করে কোন অবস্থাতেই সমাজের বিভিন্ন অংশ ও পেশাজীবীরা এদের ডাকে সামনের কাতারে বা পেছনের কাতারেও আসবেনা।

২) আ স ম আব্দুর রব- একজন মুক্তিযোদ্ধা শুধু নন, শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলকই নন। তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত স্নেহের ও কাছের ছাত্রনেতা, ছিলেন ডাকসুর প্রথম নির্বাচিত ভিপি, রণাঙ্গনের লড়াকু এই সৈনিকের মাথার দাম পাকিস্তানী জান্তা লাখ টাকা ঘোষণা করেছিলো। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর পাহাড় সমান জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে রাজপথে তিনিও তার দল বিরাট এক নয়া রাজনৈতিক শক্তির দুর্লভ এক অধিকারী। যদিও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের নানা ঘাত প্রতিঘাতে স্বাধীনতার এই মহান সৈনিকও নিজেকে অনেক বিতর্কিত ও নিজের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে অনেক প্রশ্নের ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের পাহাড় সমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য আ স ম আবদুর রব ব্যতীত গত ৩০ বছরে এখন পর্যন্ত আর কোন রাজনৈতিক নেতা সমাধানের পথ বাতলে দেননি। সবাই রাজনৈতিক সংকট ও সমস্যার কথা আলাপ করেন, সমালোচনা করেন, কিন্তু কেউ কখনো সেই সমস্যা থেকে আমরা কি করে দীর্ঘকালীন সময়ের জন্য বেরিয়ে এসে স্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হতে পারি- কেউ কখনো তেমন দিক নির্দেশনা দেননি। অথচ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে যা অতীব জরুরী প্রয়োজন।

এহেন একজন পোড় খাওয়া এবং জাতিকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়া রাজনীতিবিদ যখন বদরুদ্দোজা আর কাদের সিদ্দিকীর মতো রাজনৈতিক রঙ্গ নায়কদের ক্রীড়নকে পরিণত হতে চলেন তখন বড় কষ্ট হয়। আমি বলতে চাচ্ছি, দুষে গুণে মানুষ। দুষ ত্রুটি করার পরেও জাতির ক্রান্তিকালে সঠিক রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে জাতির সামনে আসা আ স ম আবদুর রবের মতো রাজনৈতিক নেতা দুজন সুযোগ সন্ধানী রাজনীতিবিদের খেলার পুতুলে নিজেকে কেন জড়াবেন ? রব ভাই- প্রিয় রব ভাই, জানি এই মুহূর্তে আপনার দল ছোট। আপনার সাথে লোকজনও নেই। কিন্তু যে সঠিক রাজনৈতিক কর্মসূচী আপনার কাছে রয়েছে, তা নিয়ে আপনি জনগণের সামনে যান। মাহমুদুর রহমান মান্না সহ এই রকম সমমনা রাজনৈতিক শক্তি ও ছোট ছোট সামাজিক শক্তি ও পেশাজীবীদের নিয়ে কমন রাজনৈতিক এজেন্ডা ও কর্মসূচী নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলার চেষ্টা করুন। দেখবেন মানুষ এখন নিজেদের স্বার্থে আপনাদের সাথে আস্তে আস্তে মিশবে। কারণ মানুষ বিরাজমান এই সংকট থেকে মুক্তি চাচ্ছে।

প্রিয় রব ভাই, জনগণের কাতারে থেকে জনগণের ভাগ্য বদলানোর জন্য কোন স্টার আর তারকা রাজনীতিবিদের প্রয়োজন নেই। দুই দল আর জামায়াত জনগণকে আর বেশীদিন জিম্মি করে রাখতে পারবেনা।

৫৪ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে একজন নেতা শুধু সাহস করে জনগণের কথা বলে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তারপরের ইতিহাস আপনার জানা। ৭০ এর নির্বাচন আপনার নিজের রাজনৈতিক ক্যারিশমায় সমৃদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে আপনাদের ছাত্র নেতৃত্ব কেমন অসাধ্য কাজ সাধ্য করেছিলেন, সেটাও কি আর বলার অপেক্ষা রাখে।

প্রিয় রব ভাই, বদরুদ্দোজা কাদের সিদ্দিকী হাজারো চেষ্টা করেও জনগণের নেতা হতে পারবেননা। জনগণ তাদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হবেনা। তাই বলে আমি এই দুই নেতার বিরোধী নই।রাজনৈতিক জোটে এই শ্রেণীর নেতাদেরও কদর থাকা দরকার। কিন্তু তার আগে দরকার জনগণকে আশ্বস্ত করা, বিশ্বাসের ভরসা দেয়া। জনগণ যখন দেখবে, তারকা নয়, আওয়ামীলীগ নয়, বিএনপি নয়, জামায়াত নয়, একজন কেজরিওয়ালাই তাদের মনের কথা বলছে, তাদের জন্য জীবন বাজী রেখে এগিয়ে এসেছে-জনগণ তখন আপনা থেকেই বিপ্লব ঘটাবে। দেশ জাতি ও সমজা এবং সময়ের প্রয়োজনে সেটাই বার বার প্রমাণিত। দরকার শুধু সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে দরকার নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।

 

২০১২ সালে সিরাজুল আলম খান দাদার সাথে লন্ডনে আমার সাক্ষাত হয়েছিলো। তখনো দেশে রাজনীতিতে এতো উত্থান পতন কিংবা সংকটের ঘনঘটা ঘনীভূত বা দেখা যায়নি। অথচ দাদা স্পষ্টতই আমাকে দৃঢ়কন্ঠে বলেছিলেন, ২০১৩-২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হানাহানি, খুনোখুনি, ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। দুই দলই ক্ষমতার জন্য কামড়াকামড়ি করে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, তখন নানা শক্তি ও শ্রেণীর মধ্যে সংঘাত, সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে। ২০১৩ শেষ দিকে এসে সিরাজুল আলম খান দাদার সেই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে রূপ লাভ করতে দেখে বড় বিস্ময়ে অবাক হয়ে যাই আর ভাবি দাদাকে সামনে পেলে জিজ্ঞেস করতাম, দাদা এ থেকে উত্তরণের আর কি কোন পন্থা খোলা নেই। সেদিন দাদা আমাকে এর বিকল্প সমাধান যা দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আ স ম আব্দুর রব তার দশ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতির কাছে তুলে ধরেছিলেন। সিরাজুল আলম খান চাচ্ছিলেন, আ স ম আবদুর রব শুধু একা নন, সবাইকে সাথে নিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক আঙ্গিকে ও কৌশলে রাজনৈতিক দল বহির্ভূতভাবে সকল শ্রেণী,পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে যাবেন। কিন্তু আমরা কেউই তা পারিনি। যেমন পারেননি আ স ম আবদুর রব। শুধু রাজনৈতিক দল নিয়ে বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক সংকট সমাধান স্থায়ীভাবে সম্ভব নয়। আজকে হয়তো নানা দূত আর চাপে স্বল্প সময়ের জন্য রোগের ঔষধ এপ্লাই করে উপশম নিরাময় করা যাবে, কিন্তু তারপর ক্ষমতার পালাবদলের সময় এলে আবার কি হবে? আবারো কি ঐ সংঘাত, সহিংসতা। আর এখনতো সহিংসতা আর বোমাবাজি সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সারা বিশ্বের শান্তির এই জনপদ এখন অশান্তির জনপদে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু এভাবেতো একটা দেশ চলতে পারেনা। এমন করে জিম্মি করে নাটকের পর নাটক মঞ্চস্থ আর চরম স্বেচ্ছাচারী অবস্থার গিনিপিগে গোটা জাতিকে নিয়ে এমন তামাশা করার নজির কোথাও নেই।

শত দুঃখ শত কষ্টের পরেও নতুন আবিষ্কার ও নতুনের আগমনী বার্তায় অনেক অনাবিল আনন্দ পাওয়া যায়। প্রতিটি ধ্বংসের বিপরীতে নতুন সৃষ্টির উল্লাস যুগে যুগে তাই প্রমাণিত। তাই শত হতাশা ও অন্ধকার ও ভুলের মাজেও আমরা বাঙালিরা বারে বার জেগে উঠেছি। যেমন করে জেগে উঠেছিলাম ৫২, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১ এবং ৯০, তেমন করে বাঙালি তার প্রয়োজনের সময় অবশ্যই আবার জেগে উঠবে-সকল জঞ্জাল পরিষ্কার করে গণতন্ত্রকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্যে। পরিবর্তনের নয়া জনগণের রাজনীতির কথা বলেন, দরকার শুধু তাদের সকলের মিলিত ঐক্যের। ছোট ছোট মিলিত ঐক্যের এই যৌথ নেতৃত্বই একদিন জনতার বাধ ভাঙ্গা স্রোতের সাথে মোহনায় মিলে কেজরিওয়ালাদের ঢাকার ঐ মসনদে জনতার নেতা করে বসাবে, জনগণের জীবন মান উন্নয়নে ও আইনের শাসন ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আমরা এমন আশাই করতে চাই।

শুভ নববর্ষ

০১লা জানুয়ারি ২০১৪ ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *